আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি
মাইনকার চিপায়।
আমারও দিলের চোট
বোঝে না কোনো হালায়।।
কোন্‌ পাগলে পাইছিল
করছে শখের শাদী।
ক্ষমতার ঝিম-তিম,
ভাবে শাহজাদী।
সকাল-বিকাল, রাইত-দুপুর
বউয়ে দেয় ঠেলা।
কয় ‘বউ পুষার মুরাদ নয়
তয় বিয়া করছস কেলা।’
আমি এধার কামাল ওধার করি
সারাদিন ফেচকি মারি।
দিনের বেলায় আরতদারী
রাইতে চোরাকারবারি।
দিন-দুনিয়া সবই গেল
জীবন ভেস্তে যায়।।
মাইয়া আমার চিজ একখান
যেমুন ফিল্মের নায়িকা,
মাধুরী, ঐশ্বরিয়া, কাজলরে
কয় অফ যা।
পোলায় আমার শিক্ষিত
পড়ে দশ কেলাসের উপরে।
হাত খরচা না দিলে
ইংলিশে গাইল পাড়ে।
মনে মনে কই আমি
গাইলের আর হুনছস কি
আমগ গাইল হুনলে পড়ে
খাড়াইব মুরগাদি।
আমি হালায় কুলুর বলদ
ফাইটা জীবন যায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এতে নেই কোনো বিস্ময়,
যার যত বেশী প্রচারণা,
তারই এখন জয়।
সততা, নিষ্টা, কিসের দেশপ্রীতি,
তিলকে যদি তাল না দেখাই,
চলে না রাজনীতি।
একবার এসো গো সখা,
মনের দুয়ার খুলি।
রাজনীতির এই কলা-কৌশল
কেমন করে মুখে বলি।
ব্যানারে, ব্যানারে, ফেস্টুনে
আকাশ গেছে টুটি।
চাটুকার আর সুবিধাবাদীর
বেড়ে গেছে ছোটাছুটি।
মিনিটে মিনিটে চোখ ধাঁধা লাগে
ফ্ল্যাশের ঝলকানি।
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত
ধ্বনি-প্রতিধ্বনি।
খিচুরী আর শুকনো রুটি
চলছে বিতরণ।
টিভি ক্যামেরায় বন্দী হলো
সকল আয়োজন।
এ কোনো উৎসবও নয়,
পার্টিও নয়, নয় কোনো সম্ভাষণ,
এ যে দুর্গতদের পাশে মোরা আছি
তারই করুণ নিদর্শন (হ্যাঁ, হ্যাঁ)।।
ছোটখাট কোনো ছুঁত পেলে তুলি
প্রতিবাদের ঝড়,
সব আক্রোশ যেন সেই
জনতার উপর।
বিনে কারণে রাস্তার ধারে
ভাঙছি দোকান-গাড়ি,
রোড ডিভাইডারের রড তুলে নিয়ে
দেখাচ্ছি বাহাদুরি।
কাটা রাইফেল, ককটেলের
চলছে প্রদর্শন।
দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি করে
নিরীহ জনগণ।
এ কোনো যুদ্ধও নয়,
সন্ত্রাসও নয়, নয় কোনো আন্দোলন।
এ যে কার কত ক্ষমতা আছে
তারই করুণ নিদর্শন।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কেউবা বলে সোনার বাংলা,
কেউ স্বনির্ভর বাংলাদেশ;
কেউবা গড়ে নতুন বাংলা,
গড়াগড়ির নেইকো শেষ।
কেউবা দেয় ভোটের অধিকার,
কেউবা খাওয়ায় ডাল-ভাত;
সবাই আবার একসুরে কয়-
স্বৈরাচারী নিপাত যাক।
যখন গদি নিয়া কাড়াকাড়ি
কে বা তাকায় আমার বাড়ি গো,
আমি আমার বেচলাম নীতি
দুই মুঠ ভাতের আশায়
বলো রে হায় হায়, হায় হায় হায়।।
গোপন কথা কইলে
লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
বাহিরে মন সিরাজদ্দৌলা,
মীর মদন আর মোহন লাল
অন্তরেতে বাস করে
মীর জাফর, বল্লভ রায়।।
ইস্কুলেতে গিয়া মোরা
জ্ঞানোন্নেশে কলম ধরি,
দেশ ও দশের করব সেবা
এই মর্মে শপথ করি।
দেশের মাটি সবচেয়ে খাঁটি,
তার সদা রাখব মান
হয় যদি বা দিতে হয়
ক্ষুদিরামের মতো প্রাণ।
কিন্তু মোদের ডাইকা নিয়া,
লক্ষ টাকার লোভ দেখাইয়া,
অস্ত্র হাতে তুইলা দিলো,
গদি সুরক্ষায়।।
নেতা বলো, নেত্রী বলো,
সবার মুখে একই ধ্বনি,
ক্ষমতায় গেলে তারা,
দেশ বানাইব সোনার খনি।
কিন্তু যখন পায় ক্ষমতা,
ভুলে যায় সব অতীত কথা,
ব্যক্তিগত রেষারেষীর
শোধ নিবার চায়।
এই সুযোগে মন্ত্রী-আমলা,
আখের ও গুছায়।
উন্নয়ন যে বন্দী রইল
ফাইলের ও পাতায়।।
পরের কথা বলব কি আর
নিজের দিকে চাইয়া দেখি
স্বাধীনতা পাইয়া
নিজের কি হাল করেছি।
বাঙালী না বাংলাদেশী,
এ যে নিয়ে রেষারেষী;
আসলে তো কাজে-কর্মে
হয়ে গেছি হাফ-বিদেশী।
ইংল্যান্ড আর অ্যামেরিকা,
আমার মাথায় স্বপ্ন গাঁথা গো।
আমারে যে পাইয়া বইছে
বিদেশী নেশায়।।
বঙ্গ দেশের রঙ্গ লইয়া
রচিল হায় কত গান;
সেই গানের মর্ম কথায়
জুড়ায় আমার মন ও প্রাণ।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের রাণী সে যে
আমার জন্মভূমি।
সেই রাণীর ঘরে জন্ম নিয়া,
কপালে রাজ তিলক দিয়া,
এমনতর বাটপারী কি
আমার শোভা পায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন,
এ জীবনে যেন আসে এমনই স্বপ্নের দিন।
সেই ভাবনায় ভাবে মনে হয়
দু’টি নয়নেতে ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
একদিন হঠাৎ হাওয়া, থামিয়ে আসা-যাওয়া,
প্রশ্নের জাল বোনে, শুরু হয় চাওয়া-পাওয়া।
আজ শুধু পথ চাওয়া, বিরহের গান গাওয়া,
ভাবনার নদী বুকে, উজানেতে তরী বাওয়া।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
যদি এই পথ ধরে, আমার এ মনের ঘরে,
চিঠি হয় অগোচরে, আসে কেউ চুপিসারে।
চাঁদের ওই আলো হয়ে, আসো মোর ভাঙা ঘরে,
দেখা যায়, যায় না ছোঁয়া, যেন গান চাপা স্বরে।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

সোনালী প্রান্তরে ভ্রোমরার গুঞ্জরে
দখিনা পবনেতে অন্ধ আবেগে
থাকে না মন ঘরে।।
বারে বারে যেন আসি ফিরে এমন দেশে
উষ্ণ বালির বুকে সূর্য যেথায় ওঠেন হেসে।
ভালোবাসা কত আশা, ছড়ানো এ বাতাসে
স্বপ্নমাখা মেঘের নকশা ঝড়ানো এ আকাশে।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।
(ও) আজ নতুন সাজে এলো যে বৈশাখী এরা
হাতেতে যেন থাকে ও সুজন তোমারই হাত।
উষ্ণ মরুর শুকনো বুকে থাকে বাতাস ছবি
দিবারাত্রি যেন কাব্য লিখে যায় কোন্‌ সে কবি।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ছোট ছোট স্বপ্নের নীলে
কখনো রোদ্দুর বৃষ্টি।
জীবনের চাকা গেছে আঁকা-বাঁকা
সৃষ্টি বা অনাসৃষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।
কখনো আলো-ছায়ার খেলা
কখনো শুধুই আঁধার।
কোথাও থামে ভেজা সহনি
কোথাও ফুলের বাহার।
কোথাও চেতনা পাহাড় ভাঙ্গে
কোথাও বিপন্ন কৃষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।
কখনো হৃদয় ভাঙ্গার খেলা
কখনো সেতু গড়ার।
কখনো নিজ নিকতনে মন
কখনো কখনো সবার।
কোথাও চাওয়ার হিসেব মেলে না
কোথাও না পাই সন্তুষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একটু ভালো করে বাঁচবো বলে আর একটু বেশী রোজগার
ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড়।
পারলো না কিছুতেই তোমার কোলকাতা আমাকে ভুলিয়ে দিতে
পাহাড়ি রাস্তার ধারের বস্তির আমার কাঞ্চনকে।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।
সোনার খোঁজে কেউ কতদূর দেশে যায় আমি কোলকাতায়
সোনার স্বপ্ন খুঁজে ফিরি একা একা তোমাদের ধর্মতলায়।
রাত্রির নেমে এলে তিনশো বছরের সিমেন্টের জঙ্গলে
ফিরে চলে যাই সেই পাহাড়ি বস্তির কাঞ্চনের কোলে।
জং ধরা রঙ চটা পার্কের বেঞ্চিটা আমার বিছানা
কখন যে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো আমাকে তোমাদের থানা
তিন মাস জেল খেটে এখন আমি সেই থানার দারোয়ান
পারবো না ফিরে পেতে হয়তো কোনোদিন আমার সেই কাঞ্চন।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।
বেড়াতে যদি তুমি যাও কোনোদিন আমার ক্যালিংপঙ
জেনে রেখো শংকর হোটেলের ভাড়া ট্যুরিস্ট লজের থেকে কম
রাত্রির নেমে এলে আসবে তোমার ঘরে চুল্লিটা জ্বালিয়ে দিতে
আর কেউ নয় সে যে আমার ফেলে আসা নীলচে পাহাড়ি মেয়ে।
বলো না তাকে আমি দারোয়ান শুধু বলে করছি ভালোই রোজগার
ঐ বস্তির ড্রাইভার চিগমির সাথে যেন বেঁধে না ফেলে সংসার
আর কিছু টাকা আমি জমাতে পারলে যাবো যাবো ফিরে
পাহাড়ি রাস্তার ধারের বস্তির আমার নিজের ঘরে।
আর যদি দেখ তার কপালে সিঁদুর বলো না কিছু তাকে আর
শুধু এই সত্তর টাকা তুমি যদি পারো গুজে দিও হাতে তার
ট্রেনের টিকিটের ভাড়াটা সে দিয়েছিলো কানের মাকড়ী বেঁচে
ভালোবাসার সেই দাম তুমি দিয়ে দিও আমার কাঞ্চনকে।।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তুমি যাকে বলো সোনা আমি তাকে বলি কাঞ্চন।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}