আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি
মাইনকার চিপায়।
আমারও দিলের চোট
বোঝে না কোনো হালায়।।
কোন্‌ পাগলে পাইছিল
করছে শখের শাদী।
ক্ষমতার ঝিম-তিম,
ভাবে শাহজাদী।
সকাল-বিকাল, রাইত-দুপুর
বউয়ে দেয় ঠেলা।
কয় ‘বউ পুষার মুরাদ নয়
তয় বিয়া করছস কেলা।’
আমি এধার কামাল ওধার করি
সারাদিন ফেচকি মারি।
দিনের বেলায় আরতদারী
রাইতে চোরাকারবারি।
দিন-দুনিয়া সবই গেল
জীবন ভেস্তে যায়।।
মাইয়া আমার চিজ একখান
যেমুন ফিল্মের নায়িকা,
মাধুরী, ঐশ্বরিয়া, কাজলরে
কয় অফ যা।
পোলায় আমার শিক্ষিত
পড়ে দশ কেলাসের উপরে।
হাত খরচা না দিলে
ইংলিশে গাইল পাড়ে।
মনে মনে কই আমি
গাইলের আর হুনছস কি
আমগ গাইল হুনলে পড়ে
খাড়াইব মুরগাদি।
আমি হালায় কুলুর বলদ
ফাইটা জীবন যায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এতে নেই কোনো বিস্ময়,
যার যত বেশী প্রচারণা,
তারই এখন জয়।
সততা, নিষ্টা, কিসের দেশপ্রীতি,
তিলকে যদি তাল না দেখাই,
চলে না রাজনীতি।
একবার এসো গো সখা,
মনের দুয়ার খুলি।
রাজনীতির এই কলা-কৌশল
কেমন করে মুখে বলি।
ব্যানারে, ব্যানারে, ফেস্টুনে
আকাশ গেছে টুটি।
চাটুকার আর সুবিধাবাদীর
বেড়ে গেছে ছোটাছুটি।
মিনিটে মিনিটে চোখ ধাঁধা লাগে
ফ্ল্যাশের ঝলকানি।
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত
ধ্বনি-প্রতিধ্বনি।
খিচুরী আর শুকনো রুটি
চলছে বিতরণ।
টিভি ক্যামেরায় বন্দী হলো
সকল আয়োজন।
এ কোনো উৎসবও নয়,
পার্টিও নয়, নয় কোনো সম্ভাষণ,
এ যে দুর্গতদের পাশে মোরা আছি
তারই করুণ নিদর্শন (হ্যাঁ, হ্যাঁ)।।
ছোটখাট কোনো ছুঁত পেলে তুলি
প্রতিবাদের ঝড়,
সব আক্রোশ যেন সেই
জনতার উপর।
বিনে কারণে রাস্তার ধারে
ভাঙছি দোকান-গাড়ি,
রোড ডিভাইডারের রড তুলে নিয়ে
দেখাচ্ছি বাহাদুরি।
কাটা রাইফেল, ককটেলের
চলছে প্রদর্শন।
দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি করে
নিরীহ জনগণ।
এ কোনো যুদ্ধও নয়,
সন্ত্রাসও নয়, নয় কোনো আন্দোলন।
এ যে কার কত ক্ষমতা আছে
তারই করুণ নিদর্শন।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কেউবা বলে সোনার বাংলা,
কেউ স্বনির্ভর বাংলাদেশ;
কেউবা গড়ে নতুন বাংলা,
গড়াগড়ির নেইকো শেষ।
কেউবা দেয় ভোটের অধিকার,
কেউবা খাওয়ায় ডাল-ভাত;
সবাই আবার একসুরে কয়-
স্বৈরাচারী নিপাত যাক।
যখন গদি নিয়া কাড়াকাড়ি
কে বা তাকায় আমার বাড়ি গো,
আমি আমার বেচলাম নীতি
দুই মুঠ ভাতের আশায়
বলো রে হায় হায়, হায় হায় হায়।।
গোপন কথা কইলে
লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
বাহিরে মন সিরাজদ্দৌলা,
মীর মদন আর মোহন লাল
অন্তরেতে বাস করে
মীর জাফর, বল্লভ রায়।।
ইস্কুলেতে গিয়া মোরা
জ্ঞানোন্নেশে কলম ধরি,
দেশ ও দশের করব সেবা
এই মর্মে শপথ করি।
দেশের মাটি সবচেয়ে খাঁটি,
তার সদা রাখব মান
হয় যদি বা দিতে হয়
ক্ষুদিরামের মতো প্রাণ।
কিন্তু মোদের ডাইকা নিয়া,
লক্ষ টাকার লোভ দেখাইয়া,
অস্ত্র হাতে তুইলা দিলো,
গদি সুরক্ষায়।।
নেতা বলো, নেত্রী বলো,
সবার মুখে একই ধ্বনি,
ক্ষমতায় গেলে তারা,
দেশ বানাইব সোনার খনি।
কিন্তু যখন পায় ক্ষমতা,
ভুলে যায় সব অতীত কথা,
ব্যক্তিগত রেষারেষীর
শোধ নিবার চায়।
এই সুযোগে মন্ত্রী-আমলা,
আখের ও গুছায়।
উন্নয়ন যে বন্দী রইল
ফাইলের ও পাতায়।।
পরের কথা বলব কি আর
নিজের দিকে চাইয়া দেখি
স্বাধীনতা পাইয়া
নিজের কি হাল করেছি।
বাঙালী না বাংলাদেশী,
এ যে নিয়ে রেষারেষী;
আসলে তো কাজে-কর্মে
হয়ে গেছি হাফ-বিদেশী।
ইংল্যান্ড আর অ্যামেরিকা,
আমার মাথায় স্বপ্ন গাঁথা গো।
আমারে যে পাইয়া বইছে
বিদেশী নেশায়।।
বঙ্গ দেশের রঙ্গ লইয়া
রচিল হায় কত গান;
সেই গানের মর্ম কথায়
জুড়ায় আমার মন ও প্রাণ।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের রাণী সে যে
আমার জন্মভূমি।
সেই রাণীর ঘরে জন্ম নিয়া,
কপালে রাজ তিলক দিয়া,
এমনতর বাটপারী কি
আমার শোভা পায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন,
এ জীবনে যেন আসে এমনই স্বপ্নের দিন।
সেই ভাবনায় ভাবে মনে হয়
দু’টি নয়নেতে ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
একদিন হঠাৎ হাওয়া, থামিয়ে আসা-যাওয়া,
প্রশ্নের জাল বোনে, শুরু হয় চাওয়া-পাওয়া।
আজ শুধু পথ চাওয়া, বিরহের গান গাওয়া,
ভাবনার নদী বুকে, উজানেতে তরী বাওয়া।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
যদি এই পথ ধরে, আমার এ মনের ঘরে,
চিঠি হয় অগোচরে, আসে কেউ চুপিসারে।
চাঁদের ওই আলো হয়ে, আসো মোর ভাঙা ঘরে,
দেখা যায়, যায় না ছোঁয়া, যেন গান চাপা স্বরে।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

সোনালী প্রান্তরে ভ্রোমরার গুঞ্জরে
দখিনা পবনেতে অন্ধ আবেগে
থাকে না মন ঘরে।।
বারে বারে যেন আসি ফিরে এমন দেশে
উষ্ণ বালির বুকে সূর্য যেথায় ওঠেন হেসে।
ভালোবাসা কত আশা, ছড়ানো এ বাতাসে
স্বপ্নমাখা মেঘের নকশা ঝড়ানো এ আকাশে।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।
(ও) আজ নতুন সাজে এলো যে বৈশাখী এরা
হাতেতে যেন থাকে ও সুজন তোমারই হাত।
উষ্ণ মরুর শুকনো বুকে থাকে বাতাস ছবি
দিবারাত্রি যেন কাব্য লিখে যায় কোন্‌ সে কবি।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ছোট ছোট স্বপ্নের নীলে
কখনো রোদ্দুর বৃষ্টি।
জীবনের চাকা গেছে আঁকা-বাঁকা
সৃষ্টি বা অনাসৃষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।
কখনো আলো-ছায়ার খেলা
কখনো শুধুই আঁধার।
কোথাও থামে ভেজা সহনি
কোথাও ফুলের বাহার।
কোথাও চেতনা পাহাড় ভাঙ্গে
কোথাও বিপন্ন কৃষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।
কখনো হৃদয় ভাঙ্গার খেলা
কখনো সেতু গড়ার।
কখনো নিজ নিকতনে মন
কখনো কখনো সবার।
কোথাও চাওয়ার হিসেব মেলে না
কোথাও না পাই সন্তুষ্টি।
তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি
এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একটু ভালো করে বাঁচবো বলে আর একটু বেশী রোজগার
ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড়।
পারলো না কিছুতেই তোমার কোলকাতা আমাকে ভুলিয়ে দিতে
পাহাড়ি রাস্তার ধারের বস্তির আমার কাঞ্চনকে।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।
সোনার খোঁজে কেউ কতদূর দেশে যায় আমি কোলকাতায়
সোনার স্বপ্ন খুঁজে ফিরি একা একা তোমাদের ধর্মতলায়।
রাত্রির নেমে এলে তিনশো বছরের সিমেন্টের জঙ্গলে
ফিরে চলে যাই সেই পাহাড়ি বস্তির কাঞ্চনের কোলে।
জং ধরা রঙ চটা পার্কের বেঞ্চিটা আমার বিছানা
কখন যে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো আমাকে তোমাদের থানা
তিন মাস জেল খেটে এখন আমি সেই থানার দারোয়ান
পারবো না ফিরে পেতে হয়তো কোনোদিন আমার সেই কাঞ্চন।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।
বেড়াতে যদি তুমি যাও কোনোদিন আমার ক্যালিংপঙ
জেনে রেখো শংকর হোটেলের ভাড়া ট্যুরিস্ট লজের থেকে কম
রাত্রির নেমে এলে আসবে তোমার ঘরে চুল্লিটা জ্বালিয়ে দিতে
আর কেউ নয় সে যে আমার ফেলে আসা নীলচে পাহাড়ি মেয়ে।
বলো না তাকে আমি দারোয়ান শুধু বলে করছি ভালোই রোজগার
ঐ বস্তির ড্রাইভার চিগমির সাথে যেন বেঁধে না ফেলে সংসার
আর কিছু টাকা আমি জমাতে পারলে যাবো যাবো ফিরে
পাহাড়ি রাস্তার ধারের বস্তির আমার নিজের ঘরে।
আর যদি দেখ তার কপালে সিঁদুর বলো না কিছু তাকে আর
শুধু এই সত্তর টাকা তুমি যদি পারো গুজে দিও হাতে তার
ট্রেনের টিকিটের ভাড়াটা সে দিয়েছিলো কানের মাকড়ী বেঁচে
ভালোবাসার সেই দাম তুমি দিয়ে দিও আমার কাঞ্চনকে।।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তুমি যাকে বলো সোনা আমি তাকে বলি কাঞ্চন।
কাঞ্চন জানা কাঞ্চন ঘর, কাঞ্চনজংঘা কাঞ্চন মন
তো পাইলে সোনা অনু লইয়ো মউল্লা হাঙচুকাঞ্চন।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

যখন মনের ভেতর সূর্যটা হটাৎ ডুবে যায়,
যখন আশা-ভরসা সব রাস্তা হারায়।
যখন ভর দুপুরে পথের ধারে একলা করে ভয়,
যখন বাসের ভিড়ে গলার ভেতর কান্না চাপতে হয়।
জেনো তোমার মতই আমি ঠাকরে বেড়াই
জেনো তোমার মতো আমার বন্ধু একটা চাই।
যেমন মাঝ দরিয়ার নৌকো ফিরে আসে কিনারায়,
ওরে মানুষ যথন আছে তখন হাত জুটে যায়।
শেষ বলে কিছু নেই। শেষ বলে কিছু নেই।
শেষ যেখানে, জেনো শুরু সেখানে।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

বসে আছি ইস্টিশানেতে, লেবু লজেন্সের শিশিটা হাতে,
বোকা কোকিলটার গলা শুকিয়ে কাঠ, গাড়ী আজ লেটে দৌড়োচ্ছে।
বাড়ী ছেড়েছি ডিসেম্বর মাসে, পালাতে হয়নি দাদা তাড়িয়েছে,
ফিরতে হলে আড়াইশো টাকা, দিতে হবে মাসের শেষে।
অঙ্কতে আশি পেয়েছিলাম একবার, মা ভেবেছিল হবো ইঞ্জিনিয়ার,
বাবা কিছুই ভাবতে পারেনি, বাবা ছিল না যে আমার।
কালো ঘর বাড়ী শন্ শন্ যায় সরে, ট্রেনের দোলাতে রোজ দুপুরে,
মায়ের কোলের সেই দোলাটা, যায় মনে পড়ে যায় আমার।
কু ঝিক্ ঝিক্ করে যথন রাত আসে, চাঁদটা মনে হয় এলুমিনিয়ামের,
কারখানার ঐ কালো ধোঁয়াটা, কেন যে আমায় কাঁদায়।
“দাদা, একটা মিনি হবে কি? একটাও লেবু হয়নি বিক্কিরি,
গতকালের পনেরো টাকা থেকে চেকারকে দিতে হবে দশ।।”
একবার ভেবেছিলাম এই গলাটা যায় যদি যাক ট্রেনের তলাতে,
কিন্তু ঐ এলুমিনিয়ামের চাঁদ, দেয়নি পালাতে আমায়।
একটু আগে গড়িয়ার শিবু, দম দিতে বলল ব্যোম্ শংকরে,
মাথাটা তাই কেমন ঝিম ঝিম করছে, গলাটা শুকিয়ে কাঠ।
“দাদা, একটা মিনি হবে কি? একটাও লেবু হয়নি বিক্কিরি,
গতকালের পনেরো টাকা থেকে চেকারকে দিতে হবে দশ।।”
বসে আছি ইস্টিশানেতে, লেবু লজেন্সের শিশিটা হাতে,
বোকা কোকিলটার গলা শুকিয়ে কাঠ, গাড়ী আজ লেটে দৌড়োচ্ছে।
বাড়ী ছেড়েছি ডিসেম্বর মাসে, পালাতে হয়নি দাদা তাড়িয়েছে,
ফিরতে হলে আড়াইশো টাকা, দিতে হবে মাসের শেষে।
অঙ্কতে আশি পেয়েছিলাম একবার, মা ভেবেছিল হবো ইঞ্জিনিয়ার,
বাবা কিছুই ভাবতে পারেনি, বাবা ছিল না যে আমার।
বসে আছি ইস্টিশানেতে, বসে আছি ইস্টিশানেতে।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

সাবধান মিসেস মুখার্জী একটু ভেবে দেখবেন
মেয়েটি যে আপনার হচ্ছে বড় সে তো নয় ফাউন্টেন পেন
আগলে আগলে রেখে আঁচলের তলায় ধরে রাখা যায় না সময়
চোখে চোখে রাখা মানেই কিন্তু মনে ধরে রাখা নয়
সাবধান মিসেস মুখার্জী তাকিয়ে দেখুন একবার
বলতে কি চায় চোখ দুটো তার চাপা অহংকার
জামার মাপটা তার জানেন ভালোই মনের খবর কি রাখেন
সাবধান মিসেস মুখার্জী সাবধান মিসেস সেন।
বড় হয়ে যাচ্ছে মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন।।
সময়ের মার নেই বলছি যে তাই এখনো সময় আছে
যতই তাকে আগলে রাখুন নাচ আর গানের ক্লাসে
অন্ধ যে নয় তার চোখ দুটো তাই বন্ধ যে নয় তার মন
সেই মনের সাথে কত হাজার কথা হয় তার যখন তখন
ষোল বছরের এই মনটার ভেতরে রোজ রোজ কত কি ঘটে
কত কত স্বপ্নকে জন্ম সে দেয় কত স্বপ্ন কে দেয় পুড়িয়ে
একদিন মনের এই শ্মশানটা যদি দাউদাউ করে জ্বলে উঠে
সাবধান মিসেস মুখার্জী সাবধান মিসেস সেন।
বড় হয়ে যাচ্ছে মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন।।
ন’ নটা মাস ধরে পেটের ভেতর নিয়ে হাজার যন্ত্রনা
একটু একটু করে একদিন আপনি হয়ে গেলেন মা
একটু একটু করে যৌবন আপনার কোথায় গেলো হারিয়ে
স্বপ্ন দেখার সেই মনটাও কেমন হয়ে গেলো ঘোলাটে
বদলে গেছে সময়টা নাকি আপনি বদলে গেছেন
ষোল বছরের সেই স্বপ্নগুলো আপনি ভুলে বসেছেন
বলতেই পারেন আমার এই গানের নেই কোন মুন্ডু মানে
তবে সাবধান মিসেস দত্ত সাবধান মিসেস সেন।
বড় হয়ে যাচ্ছে মন
বড় বড় স্বপ্ন সে দেখতে শিখছে এখন
পৃথিবীটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে
মানবে কি করে সে বলুন
আপনার ছোট খাটো শাসন।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নাম আমার আলীবাবা, বয়স আমার দশ,
আজকে দিনটা বড়, আজকে যীশু দিবস।
চারটে মুরগী ছাড়ালে, একটা টাকার নোট,
ওই কালো ড্রামের ভেতর ওরা করছে যে ছট্‌ফট্।
নাম আমার আলীবাবা, বড়দিনের ভীড়।
তাই রক্তে মাখামাখি আমার সারাটা শরীর।
শীত যে আমার করছে না কো, নেই যে অবকাশ,
আটতিরিশটা পাখি মানে না টাকা পঞ্চাশ।
রাতের বেলায় ফিরে এসে চাচার পিঠ মালিশ,
নেই যে আমার বিছানা, নেই যে বালিশ।
তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে।
স্বপ্ন দেখি, ঘুড়ি ওড়াই টানা আকাশে।
কান্না আমার যাচ্ছে কমে, বাড়ছে যে সাহস,
নাম যে আমার আলীবাবা, বয়স এখনো দশ।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোড়া করে দেবো
বলেছে পাড়ার দাদারা
অন্যপাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই
রঞ্জনা আমি আর আসবো না ।।
ধর্ম আমার আমি নিজে বেছে নিইনি
পদবীতে ছিলো না যে হাত
মসজিদে যেতে হয় তাই জোর করে যাই
বছরে দু’একবার ।
বাংলায় সত্তর পাই আমি এক্সামে
ভালো লাগে খেতে ভাত মাছ
গাঁজা-সিগারেট আমি কোনটাই ছুঁইনা
পারিনা চড়তে কোন গাছ।
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না ।।
বুঝবো কি করে আমি তোমার ঐ মেজ দাদা
শুধু যে তোমার দাদা নয়
আরো কত দাদাগিরি কব্জির কারিগরি
করে তার দিন কেটে যায়।
তাও যদি বলতাম হিন্দুর ছেলে আমি
নিলু বিলু কিম্বা নিতাই
মিথ্যে কথা আমি বলতে যে পারিনা
ভ্যাবা ভ্যাবা ভ্যাবাচ্যাকা খাই।
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না ।।
সত্যিকারের প্রেম জানিনাতো কি সেটা
যাচ্ছে জমে হোম টাস্ক
লাগছে না ভালো আর মেট্রো-চ্যানেলটা
কান্না পাচ্ছে সারা রাত।
হিন্দু কি জাপানী জানি না তো তুমি কি
জানে ঐ দাদাদের গ্যাং
সাইকেলটা আমি ছেড়ে দিতে রাজি আছি
পারবো না ছাড়তে এই ঠ্যাং।
চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি
দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি
কব্জির জোরে আমি পারবো না
পারবো না হতে আমি রোমিও
তাই দুপ্পুর বেলাতে ঘুমিও
আসতে হবে না আর বারান্দায়
রঞ্জনা আমি আর আসবো না ।।

[গানটি গেয়েছেন অঞ্জন দত্ত]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমার পরিচয় – বেকার যুবক আমি, সম্বল একটাই দৈন্য।
ডিগ্রির ভাঁড়ারেতে তবু কিছু মাল আছে, পকেটের ভাঁড়ারটা শুন্য।
যেদিকেই তাকাই না, দেখি জন-অরণ্য, সে অরণ্যেই দেখি মানুষেরা পণ্য,
বধুকে পোড়ানো হয়, অধর্ম জয়ী হয়, মানুষের রক্তে দিনলিপি সই হয় ।
হাসপাতালের বেডে টিবি রোগীর সাথে খেলা করে শুয়োরের বাচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে…সারে যাঁহা সে আচ্ছা।।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা মাখা অভিযোজনে রপ্ত করেছি নিজেকে,
অসৎ হবার বহু বহু প্রচেষ্টায়, ব্যর্থ করেছি নিজেকে।
চাকরির সন্ধানে সুখতলা খয়ে যায়,গঙ্গার জল তবু একই ভাবে বয়ে যায়,
ঘুশ্, ঘুশ্,ঘুশের এক ঘুস-ঘুসে জ্বরে, গোটা দেশ চিত্কার করে ডাকে ‘ডাক্তার’,
ডাক্তার উড়ে আসে ঋণের ওষুধ নিয়ে, গঙ্গার পূজো হয় গঙ্গার জল দিয়ে।
বছরের অন্তে, বাজেটের যন্ত্রে পিশে দেই জীবনটা, গচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে…সারে যাঁহা সে আচ্ছা।।
প্রার্থির যোগ্যতা অথবা অভিজ্ঞতা, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের দীনতা,
কোনো কিছুই কোনো কিছুকেই ঢাকে না। আর,
‘লোক’ অথবা ‘বিধান’ যে দিকেই তাকান, রাজনীতিজ্ঞ হতে যোগ্যতা লাগে না।
হাজার প্রতিশ্রুতি বাতাসেই বয়ে যায়, ‘চলছে না, চলবে না’, তবু তাই হয়ে যায়।
কত শত শয়তান, হতে চায় ভগবান, আল্লাহ না বড় রাম, এই চলে অবিরাম।
খুনোখুনি লাঠালাঠি, অবিরাম অনুক্ষণ,এদিকে তোমার আমার পেটেতে ছুঁচোর ডন।
সমাজ বিরোধী কিছু, করে বলে মাথা উঁচু, সমাজবাদের পথই সাচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে…সারে যাঁহা সে আচ্ছা।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এই বেশ ভালো আছি। এই বেশ ভালো আছি।
এই বেশ ভালো আছি, কর্ম-কাজ নেই, গাড়ি-ঘোড়া কিছু নেই,
অফিস-কাচারি নেই, হাজিরা কামাই নেই,
শব্দ বা পরিবেশ দূষণ বালাই নেই,
সময় দেই না বলে তেলে বেগুণ জ্বলে গিন্নীর রাগ নেই,
টেলিফোনে ডাক নেই, শহরেতে কারফিউ, লোকজন কেউ নেই,
এক-চার-চার ধারা, ফুটপাথে থাকে যারা, কেউ কোথ্‌-থাও নেই,
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–
দু’নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে,
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে…
দু’নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।।
ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির-মসজিদ,
ভাঙা কাঁচ, ভাঙা মন যায় না,
রাম আছে, শ্যাম আছে, কোরাণী সেলাম আছে,
রক্তলোলুপ কিছু হয় না।
এদেশটা ফাঁকা আছে, বিদেশের টাকা আছে,
ধর্ম না গ্রাস করে আমাদের পাছে।
তাই, ভয় আছে…
দু’নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে…
দু’নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।।
এই বেশ ভালো আছি। এই বেশ ভালো আছি।
এই বেশ ভালো আছি, ভাবার সময় আছে, তবুও ভাবনা নেই,
পার্কে তে ঘোরা নেই, সিনেমায় যাওয়া নেই,
উঠতি যুবকদের যাতনার সীমা নেই,
শিহরণ আনে প্রেমে এমন বাতাস নেই,
যুবতীর কটাক্ষ, চিরে দেয় এ বক্ষ, হায়রে এমন দিনে
সেই অবকাশ নেই, চাল নেই, ডাল নেই, পয়সার দাম নেই,
তবুও টিভির স্ক্রীনে খেলার বিরাম নেই।
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

যখন সময় থমকে দাঁড়ায়
নিরাশার পাখি দু’হাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন…স্বপ্ন দেখে মন।।
যখন আমার গানের পাখি
শুধু আমাকেই দিয়ে ফাঁকি
সোনার শিকলে ধরা দেয় গিয়ে
আমি শূন্যতা ঢাকি।
যখন এ ঘরে ফেরে না সে পাখি
নিস্ফল হয় শত ডাকাডাকি
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন…স্বপ্ন দেখে মন।।
যখন এ মনে প্রশ্নের ঝড়
ভেঙ্গে দেয় যুক্তির খেলাঘর
তখন বাতাস অন্য কোথাও
শোনায় তার উত্তর।
যখন আমার ক্লান্ত চরণ
অবিরত বুকে রক্তক্ষরন
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন…স্বপ্ন দেখে মন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ডাইনে বাঁয়ে, গঞ্জে গাঁয়ে,
পুরোনো অথবা নতুন অধ্যায়ে,
বিশৃংখলা যতই বাড়ুক,
গণতন্ত্র রাষ্ট্র যন্ত্র দু’চোখ বুজে রয়,
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।।
পড়াশুনো আর ভাবনা চিন্তা,
নাচছে শীকেয় – তা ধিন্ ধিন্ তা !
বিরাশি প্রহর সংকীর্তন,
মাইকে প্রবল চিত্কার।
রাষ্ট্র হেসে বলেন-
এ যে গণতান্ত্রিক অধিকার।
শব্দ দূষণ প্রতিকার,
সে তো বিজ্ঞাপনের কথা
ভবিষ্যতের ভাবনায় নেই কারোর মাথাব্যথা।
আসলে, হাজারটা লোক, হোতাদের ভোট,
রয়েছে ধর্ম ময়।
ভ’হয়! ভ’হয়! ভ’হয়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।।
শহরের এক কোণে বেড়ে চলে
অন্ধকারের চক্র,
সমাজ-বিরোধী, মাস্তান, ফোড়ে,
একতা ওদের অস্ত্র।
ওদেরই তো দেখি ভোটের সময়,
নানান রঙেতে রাঙানো জামায়,
রাষ্ট্র তখন প্রাণপনে ভোলে
ওদের পরিচয়।
তাই ভয়! ভয়! ভহ’য়! ভয়!
পাছে ভোট নষ্ট হয়।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি করে,
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রিফকেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে—
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।।
প্রতিদিন চুরি যায় মূল্যবোধের সোনা,
আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চেতনা।
কিছুটা মূল্য পেয়ে ভাবি বুঝি শোধ-বোধ,
ন্যায় নীতি ত্যাগ করে, মানুষ আপোস করে,
চুরি গেছে আমাদের সব প্রতিরোধ।
এরপর কোনো রাতে, চাকরটা অজ্ঞাতে,
সামান্য টাকা নিয়ে ধরা পড়ে হাতে নাতে।
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে—
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।।
প্রতিদিন চুরি যায় দিন বদলের আশা,
প্রতিদিন চুরি যায় আমাদের ভালোবাসা।
জীবনী শক্তি চুরি গিয়ে আসে নিরাশা,
সংঘাত্-প্রতিঘাত্ দেয়ালে দেয়ালে আঁকা,
তবু চুরি যায় প্রতিবাদের ভাষা।
কখনো বাজারে গেলে, দোকানী কিশোর ছেলে,
কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে, ওজনেতে কম দিলে,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে—
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ছেলে আমার মস্ত মানুষ,মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।
ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।।
আমার ব্যবহারের সেই আলমারি আর আয়না
ওসব নাকি বেশ পুরনো,ফ্ল্যাটে রাখা যায় না।
ওর বাবার ছবি,ঘড়ি-ছড়ি,বিদেয় হলো তাড়াতাড়ি
ছেড়ে দিলো, কাকে খেলো, পোষা বুড়ো ময়না।
স্বামী-স্ত্রী আর আ্যালসেশিয়ান-জায়গা বড়ই কম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।।
নিজের হাতে ভাত খেতে পারতো নাকো খোকা
বলতাম আমি না থাকলে কি করবি রে বোকা?
ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতো খোকা আমার কথা শুনে-
খোকা বোধ হয় আর কাঁদে না,নেই বুঝি আর মনে।
ছোট্টবেলায় স্বপ্ন দেখে উঠতো খোকা কেঁদে
দু’হাত দিয়ে বুকের কাছে রেখে দিতাম বেঁধে
দু’হাত আজো খুঁজে,ভুলে যায় যে একদম-
আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম।।
খোকারও হয়েছে ছেলে,দু’বছর হলো
তার তো মাত্র বয়স পঁচিশ,ঠাকুর মুখ তোলো।
একশো বছর বাঁচতে চাই এখন আমার সাধ
পঁচিশ বছর পরে খোকার হবে ঊনষাট।
আশ্রমের এই ঘরটা ছোট,জায়গা অনেক বেশি-
খোকা-আমি,দু’জনেতে থাকবো পাশাপাশি।
সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার,
কেউ হতে চায় ব্যবসায়ী কেউ বা ব্যারিস্টার,
কেউ চায় বেচতে রূপোয় রূপের বাহার চুলের ফ্যাশান।
আমি ভবঘুরেই হব, এটাই আমার অ্যাম্বিশন।।
ঠকানোই মূল মন্ত্র, আজকের সব পেশাতে,
পিছপা নয় বিধাতাও, তেলেতে জল মেশাতে।
ডাক্তার ভুলছে শপথ, ঘুষ খায় ইঞ্জিনিয়ার,
আইনের ব্যবচ্ছেদে, ডাক্তার সাজে মোক্তার।
যদি চাও সফলতা, মেনে নাও এই সিস্টেম,
ফেলে দাও শ্রোতের মুখে, আদর্শ বিবেক ও প্রেম।
এ সমাজ মানবে তোমায়, গাইবে তোমারই জয়গান।
আমি কোনে বাউল হব, এটাই আমার অ্যাম্বিশন।।
বড় যদি চাইবে হতে, সেখানেও লোক ঠকানো।
সতভাবে বাঁচো বাঁচাও, একথা লোক ভোলানো।
সতভাবে যাবে বাঁচা, বড় হওয়া যাবে নাকো।
শুধু কথা না শুনে, বড়দের দেখেই শেখ।
এ সবই থাক তোমাদের, আমি বড় চাই না হতে,
ধুলো মাখা পথই আমার, তুমি চড়ো জয়োরথে।
শত লাঞ্ছণা দিও, করো আমায় অসম্মান।
তবু আমি বোকাই হব, এটাই আমার অ্যাম্বিশন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন।
তিনটেয়ে যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন,
চটিটা গলিয়ে পায়ে, নিপাট নির্দ্বিধায়
চেয়ারটা কোনোমতে ছাড়ি।
কোনো কথা না বাড়িয়ে,
ধীরে ধীরে পা বড়িয়ে
চারটেয় চলে আসি বাড়ি।
আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি সরকারি কর্মচারী।।
আমি অফিসেতে বসে বসে আনন্দলোক পড়ি,
টাডা থেকে ছাড়া পেল সঞ্জয়।
আর টেবিলেতে আমার ফাইল এসে জমে জমে
দূর থেকে মনে হয় হিমালয়!
হপ্তায় হপ্তায় আন্দোলনের খেলা,
টি-এ, ডি-এ বাড়ানোর জন্য।
ফি মাসে মাসে যদি এক দিনও কাজ করি,
অফিসটা হয়ে যায় ধন্য।
কারো ফাইল পাস্ করে নির্লজ্জের মতো
হাতখানা পেতে দিতে পারি।
আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি সরকারি কর্মচারী।।
(মা, মাগো, জগৎ জননী, অন্নদায়িনী মা আমার রক্ষা করো!)
ঘুষ আমার ধর্ম ঘুষ আমার কর্ম
ঘুষ নিতে কি সংশয়?
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ
ঘুষ খাওয়া কখনই নয়।
তাই কারো ফইল পাস্ করে নির্লজ্জের মত
হাত খানা পেতে দিতে পারি।
আমি সরকারি কর্মচারী।
আমি সরকারি কর্মচারী।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন।
জীবন প্রসব করে চলাই জীবন,
শুধু যোগ বিয়োগের খেলাই জীবন।।
শুধু সূর্যের পানে দেখাই জীবন,
জীবনকে ভোগ করে একাই জীবন,
একই কক্ষ্যপথে ঘোরাই জীবন,
স্বপনের সমাধি খোড়াই জীবন,
মনের গোপন ঘরে, যে শাপদ ঘর করে,
তাকেই লালন করে চলাই জীবন।।
ফুটপাথে বেওয়ারিশ শিশুরা জীবন,
রাম, ইসলাম আর যীশুরা জীবন,
ওষুধের বিষপান করাই জীবন,
চিকিৎসাহীন হয়ে মরাই জীবন।
যে মেয়েটা রোজ রাতে, বদলায় হাতে হাতে,
তার অভিশাপ নিয়ে চলাই জীবন।।
প্রতিবাদ প্রতিরোধে নামাই জীবন,
লক্ষ্যে পৌঁছে তবে থামাই জীবন,
স্বপ্নে বেচা কেনা করাই জীবন,
দেয়ালে ঠেকলে পিঠ লড়াই জীবন,
প্রতিদিন ঘরে ফিরে, অনেক হিসেব করে,
‘এ জীবন চাই না’, তা বলাই জীবন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমি সরকারী অফিসার
আমি সরকারী অফিসার
আছে মোর আগে পিছে কতশত তাবেদার।
আমি কত না সাধন করে মামার খুঁতির জোরে
অবশেষে হয়েছি একালের জমিদার
আমি সরকারী অফিসার
আমি একালের জমিদার
আমাকে ছাড়া চালাবে এ দেশ সাধ্য কার বাবার
আমি আপন মনে চলি মনে মনে বলি
কিসের নেতা, কিসের নেত্রী, আমিই তো সরকার।।
নেতাদের কথা ভেবে আমার বড্ড হাসি পায়
ক্ষমতা চলে গেলেই তারা বড়ই নিরুপায়
কাল যারা আসনে বসে করতো হুকুমদারি
আজ তারা রাজপথে গড়েছে ঘরবাড়ি
জনতার ধাওয়া খেয়ে আবার পুলিশে দাবড়ায়
আবার জায়গা মত ফেসে গেলে জেলের ভাতও খায়
এরা ক’দিনের মেহমান, এদের কিসের সম্মান
আমি আছি, আমি থাকব, আমি চির অম্লান।।
বেতন কত পাই তার খোঁজ কে রাখে ভাই
বেতন গুণে চলতে গেলে বাঁচার উপায় নাই
কলম খচা দিলাম আমার লক্ষ টাকা চাই
দেশ যায় যাক রসাতলে ভাবনা আমার নাই
অবসর নেওয়ার পরে আমি আসব নতুন দেশে
শিল্পপতি সমাজসেবক লাগবে নামের শেষে
আমি দেশের কর্ণধার, আমি সেবক জনতার
নির্ঝঞ্ঝাট আয়েশী আমার জীবন করব পার।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি
মানুষ পেতে পারে না…ও বন্ধু।।
মানুষ মানুষকে পণ্য করে,
মানুষ মানুষকে জীবিকা করে,
পুরোনো ইতিহাস ফিরে এলে
লজ্জা কি তুমি পাবে না…ও বন্ধু।।
বলো কি তোমার ক্ষতি
জীবনের অথৈ নদী
পার হয় তোমাকে ধরে
দুর্বল মানুষ যদি।
মানুষ যদি সে না হয় মানুষ
দানব কখনো হয় না মানুষ
যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ
লজ্জা কি তুমি পাবে না…ও বন্ধু।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।।
স্বাধীনতা কি বৈশাখী মেলা, পান্তা ইলিশ খাওয়া?
স্বাধীনতা কি বটমূলে বসে বৈশাখী গান গাওয়া?
স্বাধীনতা কি বুদ্ধিজীবির বক্তৃতা সেমিনার?
স্বাধীনতা কি শহীদ বেড়িতে পুষ্পের সমাহার?
স্বাধীনতা কি গল্প নাটক উপন্যাস আর কবিতা?
স্বাধীনতা কি আজ বন্দী আনুষ্ঠানিকতা?
স্বাধীনতা কি ঢাকা শহরের আকাশচুম্বী বাড়ি?
স্বাধীনতা কি ফুটপাতে শোয়া গৃহহীন নর-নারী?
স্বাধীনতা কি হোটেলে হোটেলে গ্র্যান্ড ফ্যাশন শো?
স্বাধীনতা কি দুখিনী নারীর জড়-জীর্ণ বস্ত্র?
স্বাধীনতা কি গজিয়ে ওঠা অভিজাত পান্থশালা?
স্বাধীনতা কি অন্যের খোঁজে কিশোরী প্রমোদবালা?
স্বাধীনতা কি নিরীহ লোকের অকারণে প্রাণদন্ড?
স্বাধীনতা কি পানির ট্যাঙ্কে গলিত লাশের গন্ধ?
স্বাধীনতা কি হরতাল ডেকে জীবন করা স্তব্ধ?
স্বাধীনতা কি ক্ষমতা হরণে চলে বন্দুক যুদ্ধ?
স্বাধীনতা কি সন্ত্রাসী হাতে মারণাস্ত্রের গর্জন?
স্বাধীনতা কি অর্থের লোভে বিবেক বিসর্জন?
আজ নেই বর্গী, নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানী হানাদার,
আজো তবু কেন আমার মনে শূণ্যতা আর হাহাকার?
আজো তবু কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা?
আজো তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা?

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}