জীবন নদীর জোঁয়ার-ভাটায়
কত ঢেউ ওঠে পড়ে
সে হিসাব কভু রাখে না কালের খেয়া
কত পথ সে তো পাড় হয়ে যায়
আনে তার হাওয়া ভরে
ওরে ও যাত্রী এই খেয়াতেই
পাড়ি দিতে হবে আজই
কূল হতে কূলে নিয়ে যেতে তোরে
নিয়তি সেধেছে মাঝি
তার কঠিন মুঠিরে চিরদিনই তোর
ভাগ্যের হাল ধরে।।
সমুখে যে তোর হাতছানি দেয়
চির জানার ডাক
এই পথে যেতে পিছে পড়ে রবে
জীবনেরও কত জন।
ওরে ও যাত্রী কে জানে
কোন্‌ কূলে গিয়ে কবে
কাল কি না জানা
অকূলেরও এই পথ তোর শেষ হবে
পথিকেরই শোকে কেন তবু চোখে
শ্রাবণেরই ছায়া ঝরে।।

[গানটি গেয়েছেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আহা কৃষ্ণ কালো, আঁধার কালো,
আমিও তো কালো সখি।
তবে কেন আমায় ভালোবাসলে না।
ভালোবেসে মরন ভালো,
আমিও তো মরিতে চাই,
তবে কেন আমায় ভালোবাসলে না।।
তোমার চোখে মেঘ করিলে
আমার চোখে আসে জল।
এমন সুখের যন্ত্রণা হে
কোথায় গিয়ে পাবো বল।
সুখে কেটে মরিতে চায়
তবে কেন সুখের ফাঁদে বাঁধলে না।।
পিরিতির বিষে যদি
কলঙ্ক মিশিয়া যায়।
চোখের জলের মুক্তা হে
তখনই ঝরিতে চায়।
সে রতন তুলে সখি
তবে কেন তারই মালা গাঁথলে না।।

[গানটি গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

জীবনপুরের পথিক রে ভাই
কোনো দেশেই শাকিল নাই
কোথাও আমার মনের খবর পেলাম না।।
খেয়াল পোকা যখন আমার মাথায় নড়ে-চড়ে
আমার তাসের ঘরের বসতি অমনি ভেঙে পড়ে রে।
তখন তালুক ছেড়ে মুলুক ফেলে হইরে ঘরের বাড় বন্ধু রে (আমি)।।
মন চলে আগে আগে আমি পড়ে রই বন্ধু
সোনার পিঞ্জর দিলাম বাঁধে বাসা কই পাখি।
অকুল গাঙে ভাসলাম আমি কূলের আশা ছাড়ি বন্ধু রে (তবু)।।

[গানটি গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

হায়রে কপাল মন্দ
চোখ থাকিতে অন্ধ
এই জীবন জ্বইলা পুইড়া
শেষ তো হইল না।।
বানাইল মনি তার
এমনই অলংকার
কোনোদিন কারো গলায়
শোভা পাইল না।
হায়রে হায় গয়না
কেউ তো তারে নেয়না।
মানুষের হাটে সে তো
বিক্রি হইল না।।
বানে ফুল কদমডালে
ফুটেছি বর্ষাকালে
সারাটা জনম গেল
চোখেরই জলে।
না জানি গোলাপী
কত বড় পাপী।
হায়রে হায় গোলাপী
কত বড় পাপী।
মনের আগুন মনে রইল
আর তো নিভল না।।

[গানটি গেয়েছেন রুনা লায়লা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

বল, বল, বল সবে, শত বীণা-বেণু-রবে,
ভারত আবার জগত-সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।
ধর্মে মহান্ হবে, কর্মে মহান্ হবে,
নব দিনমণি উদিবে আবার পুরাতন এ পুরবে!
আজও গিরিরাজ রয়েছে প্রহরী,
ঘিরি তিনদিক নাচিছে লহরী,
যায়নি শুকায়ে গঙ্গা গোদাবরী, এখনও অমৃতবাহিনী।
প্রতি প্রান্তর, প্রতি গুহা বন,
প্রতি জনপদ, তীর্থ অগণন, কহিছে গৌরব-কাহিনী।
বিদুষী মৈত্রেয়ী খনা লীলাবতী,
সতি সাবিত্রী সীতা অরুন্ধতী,
বহু বীরবালা বীরেন্দ্র-প্রসূতি, আমরা তাঁদেরই সন্ততি।।
ভোলেনি ভারত, ভোলেনি সে কথা,
অহিংসার বাণী উঠেছিল হেথা,
নানক, নিমাই করেছিল ভাই, সকল ভারত-নন্দনে।
ভুলি ধর্ম-দ্বেষ জাতি-অভিমান,
ত্রিশকোটি দেহ হবে এক প্রাণ, একজাতি প্রেম-বন্ধনে।।
মোদের এ দেশ নাহি রবে পিছে,
ঋষি-রাজকুল জন্মেনি মিছে,
দুদিনের তরে হীনতা সহিছে, জাগিবে আবার জাগিবে।
আসিবে শিল্প-ধন-বাণিজ্য,
আসিবে বিদ্যা-বিনয়-বীর্য, আসিবে আবার আসিবে।।
এস হে কৃষক কুটির-নিবাসী,
এস অনার্য গিরি-বনবাসী,
এস হে সংসারী, এস হে সন্ন্যাসী, —মিল হে মায়ের চরণে।
এস অবনত, এস হে শিক্ষিত,
পরহিত-ব্রতে হইয়া দীক্ষিত, —মিল হে মায়ের চরণে।
এস হে হিন্দু, এস মুসলমান,
এস হে পারসী, বৌদ্ধ, খৃষ্টিয়ান্, —মিল হে মায়ের চরণে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন,
তুই সুখী জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।
মূঢ় মন, সুখী জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।।
লাগেনি যার পায়ে ধুলি, কি নিবি তার চরণ ধুলি,
নয়রে সোনায়, বনের কাঠেই হয় রে চন্দন।
মূঢ় মন, হয় রে চন্দন।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।।
এ মোধন মায়ের মতন, দুঃখীটুতেই অধিক যতন,
এ ধনেতে ধনী যে জন, সেই তো মহাজন।
মূঢ় মন, সেই তো মহাজন।
বৃথা তোর কৃচ্ছসাধন, সেবাই নরের শ্রেষ্ঠ সাধন,
মানবের পরম তীর্থ দীনের শ্রীচরণ।
মূঢ় মন, দীনের শ্রীচরণ।
মতামতের তর্কে মত্ত, আছিস ভুলে পরম সত্য,
সকল ঘরে সকল নরে আছেন নারায়ণ।
মূঢ় মন, আছেন নারায়ণ।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ও মোর বানিয়া বন্ধু রে
একটা তাবিজ বানাইয়া দে।
একটা মাদুলি বানাইয়া দে।
ওরে মরিয়া গিয়াছে
বিয়ার সোয়ামী স্বপনে আইসে।।
যে জন সোনার বানিয়া
নীতি করে সোনাকো না মোর
ওজন করিয়া দেয়।
ও মোর সাধের বানিয়া রে
ও মোর ভাবের বানিয়া রে
ওরে সোনা-রূপা মিশিল করে একটা
তাবিজ বানাইয়া দে।
ওরে মরিয়া গিয়াছে
বিয়ার সোয়ামী স্বপনে আইসে।।
হাতের নিলুক মোর কোচার নিল
হাকার রুমুক নিভুয়াতে
যাক মারিল লোকের কথাতে।
ও মোর ভাবের বানিয়া রে
ও মোর সাধের বানিয়া রে
ওরে দিবার চাইয়া নাকের
নোলক নাই দিলু মোরে।
ওরে মরিয়া গিয়াছে
বিয়ার সোয়ামী স্বপনে আইসে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}