ভক্তিমূলক গান


মা—
কামাক্ষাতে মা কামাক্ষা দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী
যে নামেতে ডাকি মাগো
তুমি যে জগত জননী
তারাপীঠে তারিণী মা কালীঘাটে কাত্যায়নী।।
কখনো মা ছিন্ন মস্তক
বগলার ঘুমাবতী
যে রূপেতে সাজো মাগো
মহেশ্বর যে তোমার পতি
কখনো মা রাজমহলে
কখনো শ্মশানচারিণী।।
হাতে খড়গ কুমন্ডলা
করাল বদনে শ্যামা
দেখতে যেন পাসনে রে ভয়
আড়ালে মায়ের প্রতিমা
মা যে আমার শক্তিরূপা
স্নেহময়ী, কৃপাময়ী
সকলভাবেই পাবে মাকে
মা যে শান্তি সুধাময়ী
বিপদে-আপদে ডাকো
পার করে মা নিশতারিণী।।

হরি দিনতো গেল
সন্ধ্যা হলো
পার করো আমারে।
তুমি পারের কর্তা
শুনে বার্তা
তাই ডাকি তোমারে।।
আমি আগে এসে
ঘাটে রইলাম বসে।
যারা পাছে এলো
আগে গেল
আমি রইলাম পারে।।
শুনি কড়ি নাই যার
তুমি তারেও করো পার।
আমি দীন ভিখারী
নাইতো কড়ি
দেখ ঝুলি ঝেড়ে।।
আমার পাড়ের সম্বল
দয়াল নামটি কেবল।
তাই দয়াময় বলে
ডাকি তোমায় হে
অধম তারণ বলে
ডাকি তোমায় হে
ফকির কেঁদে আকুল
পাড়ে অকূল পাথারে সাঁতারে।।

অনন্ত দিগন্ত ব্যাপী অনন্ত মহিমা তব।
ধ্বনিছে অনন্ত কন্ঠে অনন্ত তোমারি স্তব॥
কোথায় অনন্ত উচ্চে, অনন্ত তারকা গুচ্ছে,
অনন্ত আকাশে তব, অনন্ত কিরণোৎসব॥
অনন্ত নিয়তি বলে বায়ু ধায়, মেঘ চলে,
অনন্ত কল্লোল জলে, পুস্পে অনন্ত সৌরভ;
অনন্ত কালের খেলা, জীবন মরণ মেলা,
হে অনন্ত, তব পানে উঠিছে অনন্ত রব।
অনন্ত সুষমা ভরা, অনন্ত যৌবনা ধরা,
দিশি দিশি প্রচারিছে অনন্ত কীর্তি বিভব,
তোমার অনন্ত সৃষ্টি, অনন্ত করুণা বৃষ্টি,
অতি ক্ষুদ্র, দীন আমি, কিবা জানি, কিবা কব॥

বলি ও কালার বাঁশি, ও শ্যামের বাঁশি,
রাধা বলে আর বেজো না ।
যেই না শ্যামের বাঁশি তুমি,
কালা সেই বা শ্যামের দাসী আমি,
বাঁশি পুরুষের ওই হাতে থাকো,
নারীর বেদন জানো না ।
রাধা বলে আর ডেকো না ।
আমি যখন রাঁধতে বসি,
কালা তখন তুমি বাজাও বাঁশি,
আমি হলুদ দিতে নুন ভুলে যাই,
পোড়া ননদী দেয় গঞ্জনা,
রাধা বলে আর ডেকো না ।
ও বাঁশি রে,
বলি শাশুড়ি ননদীর ঘরে
ও বাঁশি কত কথা কয়,
আমি জলের ছলে জলকে দেখে
মনে লাগে ভয়,
বাঁশি বাজাইও না, অবলার প্রাণে কালি আর দিও না ।
রাত্রি দিন দুপুর কালে, ও কালা বাজাও বাঁশি রাধা রাধা বলে,
আমি ঘুমের ঘরে চমকে উঠি,
কেঁদে ভিজাই বিছানা,
রাধা বলে আর ডেকো না ।
রাধা বলে আর বেজো না,
ও কালার বাঁশি,
রাধা বলে আর ডেকো না ।

আর কিছু ধন নাই মা চিতে,
চিতার আগুন জ্বলছে চিতে,
চিতা-ভস্ম চারিভিতে,
রেখেছি মা আসিস যদি ।
শ্মশান ভালোবাসিস বলে,
ও মা, শ্মশান করেছি হৃদি,
শ্মশানবাসিনী শ্যামা নাচবি বলে নিরবিধি ।

মরিব মরিব সখী, নিশ্চয় মরিব,
কানু হেন গুণনিধি কারে দিয়ে যাব?
মথুরাতে যাব গো আমি, মথুরাতে যাব,
কৃষ্ণের নাম জপতে জপতে কৃষ্ণের দেখা পাবো ।
না পুড়াইও রাধা-অঙ্গ, না ভাসাইও জলে,
মরিলে তুলিয়া রেখো তমালেরই ডালে,
আমার সর্বঅঙ্গে লিখে দিও গো শুধু কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম ।

বেলা গেল ও ললিতা মোর কৃষ্ণ এলো না ।
বলি কৃষ্ণ এলো না ললিতা মোর কৃষ্ণ এলো না ।
আসি বলে গেল কালা,
গেঁথেছি বন ফুলের মালা,
মালা হলো জপমালা,
মালার উপায় হলো না,
বেলা গেল ও ললিতে মোর কৃষ্ণ এলো না ।
সে যে আমার গুণমণি
রেখেছে কোন চাঁদবদনি,
সে যে আমায় করলো অনাথিনী
কৃষ্ণের ধর্মে সইবে না,
বেলা গেল ও ললিতা মোর কৃষ্ণ এলো না ।

পরবর্তী পৃষ্ঠা »