বাউল গান


মানুষ ধর মানুষ ভজ
শোন বলি রে পাগল মন।
মানুষের ভিতরে মানুষ
করিতেছে বিরাজন।।
মানুষ কি আর এমনি বটে
যার চরণে জগত লুটে
এই না পঞ্চ ভূতের ঘটে
খেলিতেছে নিরাঞ্জন।
চৌদ্দ তালার উপরে দালান
তার ভিতরে ফুলের বাগান।
লাইলী আর মজনু দেওয়ান
সুখেই করে যে আসন।।
দুই ধারে দুই কঠোরা
হায়াত মওত মাইঝখানে
সময় থাকতে উঠরে ত্বরা
নিকটেতে কালসমন।
সোনার পুরী আন্ধার করে
যেদিন পাখি যাবে উড়ে
শূণ্য খাঁচা থাকবে পড়ে
কে করবে আর কার যতন।।
তালাশে খালাশ মেলে
তালাস করে রঙমহলে
উঠিয়া হাবলঙের কূলে
চেয়ে থাকব সর্বক্ষণ।
দেখিবে হাবলঙের কূলে
দুইদিকেতে অগ্নি জ্বলে
ভেবে রশিদউদ্দিন বলে
চমকিছে স্বর্ণের মতন হবে।।

[গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন রশীদ উদ্দীন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নদীর কূল নাই, কিনার নাই রে
আমি কোন্‌ কূল হতে কোন্‌ কূলে যাব
কাহারে শুধাই রে।।
ওপারে মেঘের ঘটা কনক বিজলী ছটা
মাঝে নদী বহে সাঁই সাঁই রে
আমি এই দেখিলাম সোনার ছবি
আবার দেখি নাই রে।
আমি দেখিতে দেখিতে সে রূপ
আবার দেখি নাই রে।।
বিষম নদীর পানি, ঢেউ করে হানাহানি,
ভাঙা এ তরণী তবু বাই রে
আমার অকূলের কূল দয়াল আল্লাহর
যদি দেখা পাই রে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

বসন্ত বাতাসে সই গো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে।।
বন্ধুর বাড়ির ফুলবাগানে
নানান রঙের ফুল
ফুলের গন্ধে মন আনন্দে
ভ্রমর হয় আকুল।।
বন্ধুর বাড়ির ফুলের বন
বাড়ির পূর্বধারে
সেথায় বসে বাজায় বাঁশী
মন নিল তার সুরে।।
মন নিল তার বাঁশীর তানে
রূপে নিল আঁখী
তাইতো পাগল আব্দুল করিম
আশায় চেয়ে থাকে।।

[গানটি গেয়েছেন শাহ আবদুল করিম]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
(আমরা) আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।।
হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান, আনন্দের তুফান
(আমরা) গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম।।
বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে রংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম
কে হবে মেম্বার,
কে বা গ্রাম সরকার,
আমরা কি তার খবরও লইতাম
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম।।
করি যে ভাবনা
সেদিন আর পাব না
ছিল বাসনা সুখি হইতাম
দিন হতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম।।

[গানটি গেয়েছেন শাহ আব্দুল করিম]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

মরদ আমায় দরদ দিয়ে
ভালোবাসে না
আমি কালো বলে
মরদ কাছেও আসে না।।
আমি কয়লার মত কালো হলাম
দামী সাবান ঘইষ্যে মলাম
বড় লোকের মেইয়ের মত সদা হলাম না।।
আমি কালো বলে মরদ কাছেও আসে না
একবার চোখেও দেখে না,
মরদ আমায় দরদ দিয়ে ভালোবাসে না।।
আমি হোল তুলা জুতো লিব
হেইন্টো ঘেরা মেকশি পইরব্যো
ইনজিরি তে কথা কব
মাঠে যাব না, ও ভাই মাঠে যাব না।।
আমি কালো বলে মরদ,
কাছেও আসে না,
একবার চোখেও দ্যাখে না,
মরদ আমায় দরদ দিয়ে ভালো বাসে না।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

সে যে আমার হোক বা না হোক সই
আমি যে সই তার হয়েছি
দিয়ে জাতি কুল মান এই দেহ প্রাণ গো সই
আমি তার চরণে সব সঁপেছি।।
প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে
কইতে নারি হৃদয় খুলে
জ্বালা মরি কি বাঁচি
তারে দেখে যদি প্রাণ যায় আমার সই
আমি ভব জ্বালা কারে ঘুচি।।
চাইনা তোমার রাজা রাজ্য
মরণ আমার অনিবার্য
মনে ভেবেছি
তারে দেখার আশে প্রাণ রইয়াছে গো সই
আমি নইলে কি আর বেঁচে আছি।।
রজ্জবে কয় আমি হইলাম যার
সে যদি না হয় গো আমার
প্রেমের মজা কি
যেমন কাষ্ঠের সঙ্গে লোহার প্রেম হয়
তারা জলে ভাসে দুইয়ে মিশি

[গানটির গীতিকার রজ্জ্বব আলী]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পাগলা মনটারে তুই বাঁধ
কেন রে তুই যেথা সেথা পরিস প্রাণে ফাঁদ
শীতল বায়ে আসলে নিশি
তুই কেন রে হোস উদাসী
ওরে নীল আকাশে অমন করে হেসেই থাকে চাঁদ।।
শৈলশিরে সোনার খেলা
দেখিস যবে প্রভাতবেলা
তুই কেন রে হোস উতলা দেখে মোহন চাঁদ।।
করুণ সুরে গাইলে পাখি
তোর কেন রে ঝরে আঁখি
কবে তুই মুছবি নয়ন ঘুচবে মনের ফাঁদ।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নারী হয় লজ্জাতে লাল
ফাল্গুনে লাল শিমূল বন
এ কোন রঙে রঙিন হলো
বাউল মন, মন রে।।
চল সুন্দর শরৎ কালে
ফুল বসন্ত কালে
প্রেমের খেলা জমে ভালো যৌবনে সই লো
ফাগুনের মাতাল হাওয়ায়
মাতাল হইয়াছে মন।।
চাঁদ ডুবেছে নদীর জলে
ভ্রোমরা ফুলে ফুলে
আমার প্রাণ বন্ধু কেন বোঝে না সই লো
রূপ যেন তার মাতাল হাওয়া
চোখ যেন তার গহীন বন।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি
কোন মিস্তরি বানাইয়াছে
মন আমার দেহ ঘড়ি
ও একখান চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া
জনম ধইরা চলতে আছে।।
মাটির একটা কেস বানাইয়া
মেশিন দিছি তার ভিতর
রঙ বেরঙের বার্নিশ করা
দেখতে ঘড়ি কি সুন্দর ভাই
দেখতে ঘড়ি কি সুন্দর।
দেহ ঘড়ি চৈদ্দোতলা
তার ভেতরে দশটি নালা
নয়টি খোলা একটি বন্ধ
গোপন একটা তালা আছে।।
এমন সাধ্য কার আছে ভাই
এ ঘড়ি তৈয়ার করে
এই ঘড়ি তৈয়ার করে ভাই
লুকায় ঘড়ির ভিতরে ভাই
লুকায় ঘড়ির ভিতরে।
তিন কাটা বারো জুয়েলে
মিনিট কাটা হইলো ঢিলে
প্রেম নয়নে বুঝলে পরে
দেখতে পারবে চোখের সামনে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমার গায়ে যত দুঃখ সয়
বন্ধুয়া রে করো তোমার মনে যাহা লয়।।
নিঠুর বন্ধু রে, বলেছিলে আমার হবে
মন দিয়াছি এই ভেবে
সাক্ষী কেউ ছিলনা সেসময়।
সাক্ষী শুধু চন্দ্র-তারা,
একদিন তুমি পড়বে ধরা রে বন্ধু
ত্রিভুবনের বিচার যেদিন হয়।।
নিঠুর বন্ধু রে, দুঃখ দিয়া হিয়ার ভিতর
একদিনও না লইলে খবর
এইকি তোমার প্রেমের পরিচয় ও বন্ধুরে।
কি জানি কি আশা দিয়া
কেন বা প্রেম শিখাইলা রে বন্ধু
দূরে থাকা উচিত কি আর হয়।।
(পাষাণ বন্ধুরে) নিঠুর বন্ধুরে, বিচ্ছেদের বাজারে গিয়া
তোমার প্রেম বিকি দিয়া
করব না প্রেম আর যদি কেউ কয় ও বন্ধুরে।
উকিলের হয়েছে জানা
কেবলই সুরের কারখানা রে বন্ধু
চোরে চোরে বেওয়াইয়ালা হয়।।

[গানটি গেয়েছেন বারী সিদ্দিকী]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নারী হয় লজ্জাতে লাল
ফাল্গুনে লাল শিমূল বন
এ কোন রঙে রঙিন হলো
বাউল মন মন রে।।
চল সুন্দর শরৎ কালে
ফুল বসন্ত কালে
প্রেমের খেলা জমে ভালো যৌবনে সই লো…
ফাগুনের মাতাল হাওয়ায়
মাতাল হইয়াছে মন।।
চাঁদ ডুবেছে নদীর জলে
ভ্রোমরা ফুলে ফুলে
আমার প্রাণ বন্ধু কেন বোঝে না সই লো…
রূপ যেন তার মাতাল হাওয়া
চোখ যেন তার গহীন বন।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}