পল্লীগীতি


একটি চাবি মাইরা দিলা ছাইড়া
জনম ভরে চলিতেছে
মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি
কোন মিস্ত্রী বানাইয়াছে
থাকের (মাটির) একখান কেস বানাইয়া মেশিন দিল তার ভিতর
ওরে রং বেরং এর বার্নিশ করা দেখতে ঘড়ি কি সোন্দর
ঘড়ির তিন পাটে তে গড়ন সারা
এই বয়লারের মেশিনের গড়া
তিনশো ষাটটি স্ক্রুপ মারা, ষোলজন পাহারা আছে
ঘড়ি হাইস্পিডিং ফ্যাপসা পেচিং লিভার হইলো কলিজায়
ছয়টি বলে আজব কলে দিবানিশি প্রেম খেলায়
ঘড়ির তিন কাঁটা বারো জুয়েলে, মিনিট কাঁটা হইল দিলে
ঘন্টার কাটা হয় আক্কেলে, মনটারে সেকেন্টে দিসে
ঘড়ির কেসটা বত্রিশ চাকের, কলে কব্জা বেসুমার
দুইশ ছয়টা হাড়ের জোড়া বাহাত্তর হাজার তার
ও মন, দেহঘড়ি চৌদ্দতলা, তার ভিতরে দশটি নালা,
একটা বন্ধ নয়টা খোলা গোপনে এক তালা আছে।
দেখতে যদি হয় বাসনা চলে যাও ঘড়ির কাছে
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে ঘড়ির ভেতর লুকাইছে
পর্দারও সত্তুর হাজারে
তার ভিতলে লড়ে চড়ে
জ্ঞান নয়ন ফুটলে পরে দেখতে পারবেন চোখের কাছে;
ওস্তাদ আলাউদ্দিনে ভেবে বলছেন,
ওরে আমার মনবোকা;
বাউল রহমান মিয়ার কর্মদোষে হইল না ঘড়ির দেখা
আমি যদি ঘড়ি চিনতে পারতাম,
ঘড়ির জুয়েল বদলাইতাম,
ঘড়ির জুয়েল বদলাইবো
কেমন যাই মিস্ত্রীর কাছে?
মন আমার দেহঘড়ি
সন্ধান করি, কোন মিস্ত্রী বানাইছে
—————–
শিল্পীঃ আবদুর রহমান বয়াতি
সুরকারঃ আবদুর রহমান বয়াতি
গীতিকারঃ আবদুর রহমান বয়াতি

বন্ধু আজও মনে পড়ে? আম কুড়ানো খেলা ?
আম কুড়াইতে যাইতাম দুজন , নিশিভোরের বেলা ?
বন্ধু , আম কুড়ানো খেলা ।
জষ্টিমাসের গুমোট রে বন্ধু,
আসত না তো নিদ,
রাত্রে আসত না তো নিদ,
আমতলার এক চোর আইসা ,
কাটত প্রাণে সিঁদ রে বন্ধু,
কাটত প্রাণে সিঁদ ।
আমরা দুইজন আম কুড়াইতাম ,
ডাকত কোকিল গাছে,
হলো যদি বিহানবেলা,
সূর্যি সাক্ষী আছে ।
তুমি পায়ের কাছে আম ফেইল্যা গায়ে দিতে ঠেলা,
বন্ধু আম কুড়ানো খেলা ।
আমার বুকের আঁচল থাইক্যা কাইড়া নিতে আম,
বন্ধু আজও পাই নাই বাকি সেই না আমের দাম ।
আজি দাম চাইবার কিয়া দেখি তুমি গেছ চইল্যা ।
নিশি জাইগা বইসা আছি জষ্টিমাসের ঝড়ে,
সেই না গাছের তলায় বন্ধু এখনো আম পড়ে ।
আজি তুমি কোথায়, আমি কোথায় ? দুইজনে একেলা ।
আম কুড়ানো খেলা বন্ধু আম কুড়ানো খেলা ।

প্রেমের মরা জলে ডুবে না
তুমি সুজন দেইখা কইরো পিরিত,
মইরলে যেন ভুলে না দরদী।।
প্রেম কইরাছে আইয়ূব নবী
যার প্রেমে রহিমা বিবি গো,
তারে আঠার সাল কিড়ায় খাইল
তবু রহিমা ছাড়ল না দরদী।।
প্রেমের মরা জলে ডুবে না
ও প্রেম করতে দুইদিন ভাঙ্গতে একদিন
অমন প্রেম আর কইরো না দরদী।।
প্রেম কইরাছে ইউসুফ নবী
তার প্রেমে জুলেখা বিবি গো
ও সে প্রেমের দায়ে জেল খাটিল
তবু সে প্রেম ছাড়লো না দরদী।।
প্রেম কইরাছে মুসা নবী
তার প্রেমে দুনিয়ার ছবি গো
হায়রে পাহাড় জ্বলে চুরমার হইল
তবুও মুসা জ্বল্‌লো না দরদী।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

রজনী হইসনা অবসান
আজ নিশিতে আসতে পারে
বন্ধু কালাচাঁন।।
কত নিশি পোহাইলো
মনের আশা মনে রইলোরে
কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান।
আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।।
বাসর সাজাই আসার আশে
আসবে বন্ধু নিশি শেষে
দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান।
আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।।
মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে
কেমনে থাকি একা ঘরে
সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান
আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচঁন।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একদিন মা-টি-র ভিতরে হবে ঘর
রে মন আমার
কেন বান্ধ দালান ঘর।।
প্রাণ পাখী উড়ে যাবে পিঞ্জর ছেড়ে
ধরাধামে সবই রবে, তুমি যাবে চলে
বন্ধু বান্ধব যত,
মাতা পিতা তারার সুতো;
সকলই হবে তোমার পর
কেন বান্ধ দালান ঘর
রে মন আমার
কেন বান্ধ দালান ঘর।।
দেহ তোমার চর্মচর গলে পঁচে যাবে
শিরা-উপ শিরাগুলি ছিন্ন ভিন্ন হবে
মন্ডু মেরুদন্ড সবই হবে খন্ড খন্ড।।
পড়ে রবে মাটির উপর
রে মন আমার
কেন বান্ধ দালান ঘর।।
রুপেরই গৌরবে সাজিয়াছ সাজ
সোনাদানা কত কি আর রাজকী পোষাক
যেদিন প্রাণ চলে যাবে, সবই পড়ে রবে।।
গায়ে দেবে মার্কিন থান
রে মন আমার
কেন বান্ধ দালান ঘর।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কতদিন দেহিনা মায়ের মুখ
হুনিনা সেই কোকিল নামের কালা পাহির গান
হায়রে পরান, হায়রে পরান।।
হায়রে আমার গাঁয়ের বাড়ি
সারি সারি গরুর গাড়ি
মরা নদীর চর।
দীঘির জলে হাসের খেলা
ঘরের চালে দুপুর বেলা
রঙ্গিলা কইতর।।
উঠানে চরাইনা সোনার ধান
হায়রে পরান, হায়রে পরান ।
কতদিন ধরিনা ডোবায় মাছ
করিনা সেই মরা নদীর মিঠা পানি পান
হায়রে পরান, হায়রে পরান ।
হায়রে আমার রখাল হিয়া
কাজলা গরুর গোসল দিয়া
মাঠে নিয়া যায়।
বিহাল বেলা বাঁশের বনে
ঝিকিমিকি রইদের সনে
মন মিলাইতে চায়।।
ভুলিতে পারেনা মাটির টান
হায়রে পরান, হায়রে পরান।
কতদিন রাহিনা চানের খোজ
দেহিনা সেই তারার চোখে মিছা অভিমান
হায়রে পরান, হায়রে পরান।
হায়রে পরান, হায়রে পরান।
হায়রে পরান, হায়রে পরান।
হায়রে পরান, হায়রে পরান।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

শুয়াচান পাখি আমার শূয়াচান পাখি
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি।।
তুমি আমি জনম ভরা
ছিলাম মাখামাখি,
আজ কেন হইলে নীরব
মেলো দুটি আঁখি।।
বুলবুলি আর তোতা ময়না
কত নামে ডাকি,
তোরে কত নামে ডাকি
শিকল ভেঙ্গে চলে গেলে কারে লইয়া থাকি।।
তোমার আমার এই পিরিতি
চর্ন্দ্র সূর্য্য সাক্ষী,
হঠাত করে চলে গেলে
বুঝলাম না চালাকিরে পাখি
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

তুমি আরেকবার আসিয়া
যাও মোরে কান্দাইয়া
আমি মনের সুখে একবার কাঁনতে চাই
পোড়া বুকে দারুণ খরা চোখের পানি চোখে নাই।।
না পারিলাম বাঁচতে আমি
না পারিলাম মরতে
না পারিলাম পীরিতের ঐ
সোনার পাখি ধরতে
আমি এ কূল থেকে ও কূল গেলাম
ঘাটে ঘাটে চোখ রাখিলাম
আশায় আশায় ছিলাম যদি তোমার দেখা পাই।।
না বাঁধিলাম ডাঙাতে ঘর
না ডুবিলাম জলে
না পাইলাম কূল কারো মনে
না ভাসলাম অকূলে
তোমায় নাইবা পেলাম এই জনমে
সঙ্গী হবো তোমার সনে
সকল বান্ধন ছিঁড়া যখন ঐ পাড়েতে যাই
তুমি আরেকবার আসিয়া
যাও মোরে কান্দাইয়া
আমি মনের সুখে একবার কাঁনতে চাই।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

নিশিতে যাইও ফুলবনে
-রে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।।
জ্বালায়ে চান্দের বাতি
আমি জেগে রব সারা-রাতি গো;
আমি কব কথা শিশিরের সনে
-রে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।।
(আমার ডাল যেন ভাঙে না,
আমার ফুল যেন ভাঙে না,
ফুলের ঘুম যেন ভাঙে না)।
তুমি নীরব চরণে যাইও
-রে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।।
যদিবা ঘুমায়ে পড়ি-
স্বপনের পথ ধরি গো,
তুমি নীরব চরণে যাইও
-রে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি প্রাণ কোকিলা রে
আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি
আমার নিভা ছিল মনের আগুন জ্বালাইয়া গেলি প্রাণ কোকিলা রে।।
আম ধরে থোকা থোকা তেতুল ধরে ব্যাকা
আমার আসবে বলে শ্যাম কালাচাঁন নাহি দিল দেখা প্রাণ কোকিলা রে
আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি।।
আমার শিয়রে শাশুড়ী ঘুমায় জ্বলন্ত নাগিনী হায়রে জ্বলন্ত নাগিনী
আমার ওইখানে ননদী শুয়ে দুরন্ত ডাকিনী প্রাণ কোকিলা রে।।
আম গাছে আম ধরে জাম গাছে জাম হায়রে জাম গাছে জাম
আমি পন্থের দিকে চাইয়া থাকি
আসবেনি মোর শ্যাম প্রাণ কোকিলা রে।।
বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ডালের বেড়া
ওরে হাত বাড়ায়া দিতে পান
কপাল দেখি পোড়া প্রাণ কোকিলা রে।।

[গানটি গেয়েছেন আব্বাস উদ্দীন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমায় ভাসাইলি রে, আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার কোনো কূল নাই রে।।
কূল নাই কিনার নাই
নাই গো দরিয়ার পারে।
আরে সাবধানে চালাইও মাঝি
আমার ভাঙ্গা তরী রে।।
পানসা জলে সাঁই ভাসায়ে সাগরেরও বানে
আমি জীবনের ভেলা ভাসাইলাম।
কেউ না তা জানে রে।।

[গানটি গেয়েছেন আব্বাস উদ্দিন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

(আমার) সোনার ময়না পাখি
কোন্‌ দেশেতে গেলা উইড়া রে
দিয়া মোরে ফাঁকি রে।।
সোনা বরণ পাখি রে আমার
কাজল বরণ আঁখি
দিবানিশি মন চায় রে
বাইন্ধা তোরে রাখি রে।।
দেহ দিছি প্রাণ রে দিছি
আর নাই কিছু বাকি
শত ফুলের বাসন দিয়া রে
অঙ্গে দিছি মাখি রে।।
যাইবা যদি নিঠুর পাখি
ভাসাইয়া মোর আঁখি
এ জীবন যাবার কালে রে
ও পাখি রে
একবার যেন দেখি রে।।

[গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন মোহাম্মদ ওসমান খান]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

হলুদিয়া পাখি, সোনারই বরণ
    পাখিটি ছাড়িল কে
পাখিটি ছাড়িল কে রে আমার
    পাখিটি ছাড়িল কে।
কেউ না জানিল, কেউ না দেখিল,
    কেমনে পাখি দিয়াছে ফাঁকি
উইড়া গেল হায় চোখের পলকে
    পাখিটি ছাড়িল কে।।
সোনার পিঞ্জিরা শূণ্য করিয়া
    কোন বনে পাখি গেল যে উড়িয়া।
পিঞ্জিরার জোড়া খুলিয়া খুলিয়া
    ভাইঙ্গা পড়ে সেই না পাখির শোকে।।
সবই যদি ভুলে যাবি রে পাখি
    কেন তবে হায় দিলি রে আশা
উইড়া যদি যাবি ওরে ও পাখি
    কেন বাইন্ধা ছিলি বুকেতে বাসা।
কত না মধুর গান শুনাইয়া
    গেলিরে শেষে কেন কান্দাইয়া
তোমারে স্মরিয়া দুখের দরিয়া
    উথলি উঠে হায় পাগলের চোখে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}