নজরুল গীতি


এলো এলো রে বৈশাখী ঝড় এলো এলো রে
ঐ বৈশাখী ঝড় এলো এলো মহীয়ান সুন্দর।
পাংশু মলিন ভীত কাঁপে অম্বর চরাচর থরথর।।
ঘনবন-কুন্তলা বসুমতী সভয়ে করে প্রণতি,
সভয়ে নত চরণে ভীতা বসুমতী।
সাগর তরঙ্গ মাঝে তারি মঞ্জীর যেন বাজে বাজে রে
পায়ে গিরি-নির্ঝর-ঝরঝর ঝরঝর।।
ধূলি-গৈরিক নিশান দোলে ঈশান গগন চুম্বী,
ডম্বরু ঝল্লরী ঝাঁঝর ঝনঝন বাজে
এলো ছন্দ বন্ধন-হারা এলো রে
এলো মরু-সঞ্চর বিজয়ী বীরবর।।

[গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক]
[If you can’t read it, click here]

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরী টিপ,
জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।
তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি
জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,
কভু ঘরে আসি কভু বাহিরে চাই।।
আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,
জাগে বনে বনে নব ফুলের বাণী,
আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।

[গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক]
[If you can’t read it, click here]

দূর দ্বীপবাসীনি, চিনি তোমারে চিনি
দারুচিনিরো দেশে, তুমি বিদেশীনিগো
সুমন্দভাসীনি।।
প্রশান্ত সাগরে তুফানেও ঝড়ে
শুনেছি তোমারি অশান্ত রাগীনি।।
বাজাও কি বুণো সুর পাহাড়ী বা‍শীতে
বনান্ত ছেয়ে যায় বাসন্তী হাসিতে।।
তব কবরী মূলে, নব এলাচীরো ফুল
দুলে কুসুম বিলাসিনী।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এই রাঙামাটির পথে লো
মাদল বাজে বাজে বাঁশের বাঁশি।।
ও বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো
মন লাগে না কাজে লো
রইতে নারি ঘরে আমার
প্রাণ হলো উদাসী লো।।
মাদলীয়ার তালে তালে
অঙ্গ ওঠে দুলে লো
দোল লাগে শাল পিয়াল বনে
নতুন খোপার ফুলে লো
মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে
মাতাল চাঁদের হাসি লো।।
চোখে ভালো লাগে যাকে
তারে দেখবো পথের বাঁকে
তার চাচড় কেশে পড়িয়ে দেবো
ঝুমকো জবার ফুল লো
তার গলার মালার কুসুম কেড়ে
পড়বো কানের দুল
তার নাচের তালের ইশারাতে
বলবো ভালোবাসি লো।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পদ্মার ঢেউ রে–
মোর শূণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা যারে
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তা’রে।।
মোর পরান বধু নাই,
পদ্মে তাই মধু নাই– নাই রে–
বাতাস কাঁদে বাইরে–
সে সুগন্ধ নাই রে–
মোর রূপের সরসীতে আনন্দ- মৌমাছি নাহি ঝঙ্কারে।।
ও পদ্মা রে ঢেউয়ে তোর ঢেউ ওঠায় যেমন চাঁদের আলো
মোর বঁধুয়ার রূপ তেমনি ঝিল্‌মিল করে কৃষ্ণ-কালো
সে প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশী বাজায়
যদি দেখিস্‌ তারে–দিস্‌ এই পদ্ম তার পায়
বলিস্‌ কেন বুকে আশার দেয়ালী জ্বালিয়ে
ফেলে গেল চির-অন্ধকারে।।
পদ্মার ঢেউ রে
মোর শূণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা যারে।
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তারে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেবনা ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ, বেনী যাবে যবে খুলিতে।
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে।।
তোমার সুরের নেশায় যখন, ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন
রোদন হইয়া আসিব তখন তোমার বক্ষে দুলিতে ।
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে।।
আসিবে তোমার পরমোৎসবে, কত প্রিয়জন কে জানে
মনে পড়ে যাবে কোন সে ভিখারী পায়নি ভিক্ষা এখানে।
তোমার কুন্জ পথে যেতে হায়, চমকি থামিয়া যাবে বেদনায়
দেখিবে কে যেন মরে মিশে আছে, তোমার পথের ধুলিতে।
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

অকূল তুফানে নাইয়া কর পার
পাপ দরিয়াতে ডুবে মরি কান্ডারী
নাই কড়ি নাই তরী প্রভু পারে তরিবার।।
থির নহে চিত পাপ-ভীত সদা টলমল
পুণ্যহীন শূণ্য মরু সম হৃদি-তল
নাহি ফুল নাহি ফল,
পার কর হে পার কর ডাকি কাঁদি অবিরল
পার কর হে পার কর
নাহি সঙ্গী নাহি বন্ধু নাহি পথেরই সম্বল।
সাহারায় নাহি জল
শাওন বরিষা সম তব করুণার ধারা
ঝরিয়া পড়ুক পরানে আমার।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পরবর্তী পৃষ্ঠা »