দেশাত্মবোধক গান


একাত্তরের মুক্তিসেনার যুদ্ধ আমি দেখি নাই
তবু মা তোর ধুলোর গন্ধে সংগ্রামের সে স্পর্শ পাই।।
মূহুর্তে তোর গায়ের সবুজ বুড়ে হলেও সূর্য লাল
তিরিশ লক্ষ প্রাণের দামে রক্তে ভেজে তোর কপাল
নির্যাতিতা ফিরছে ঘরে নিখোঁজ তাহার বাপ ও ভাই।।
মাগো যদি জন্ম নিতাম একাত্তরের আগে গো
সন্তানের সে ঋণ শোধাতাম আত্মাহুতির আগে গো
শহীদ হব তোরই বুকে এমন কপাল আমার নাই।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এই বাংলায় রবীন্দ্রনাথ করেছে বিশ্বজয়
এই বাংলায় নজরুল লেখে বিদ্রোহী ডালাময়
এই বাংলায় বিদ্যাসাগর যুগের সূচনা
সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’ ইতিহাস রচনা।
এই বাংলায় সালাম রফিক বরকত তোরই ছেলে
ভাষার জন্য বারুদের মুখে এগোয় হেসে খেলে।
সূর্য্য-সন্তানেরা তোরই রত্নগর্ভা তূড়ি
মা মাগো মা…তুই দুঃখ, তুই সুখ,
তুই ধন্য, তুই হাসি, শ্রেষ্ঠতমা প্রিয়মুখ।।
মাগো তোর ছেলে জহির বানালো ‘জীবন থেকে নেয়া’
আলতাফ-গফফর করে গান সময় পালটে দেয়া
তোর মেয়ে ইলা মিত্র রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে
হাতে তুলে নেয় মারণাস্ত্র মুক্তি চেতনা নিয়ে।
‘স্বৈরাচারী, তার দেশ ছাড়ি’ বুকে লেখে নূর হোসেন
রবি শংকর তার বাদনে তোর কথা ভেবে কাঁদে।।
জীবনানন্দ আর সুকান্ত তোর প্রেমে কত লেখে
লতিফের গাওয়া একুশের গান মনে দাগ গেছে রেখে
দুইশ বছর পরাধীনতার ব্যারিকেড ভাঙে যারা
তোরই গর্ভের তোরই স্নেহের সূর্য্য-সন্তানেরা।
রণাঙ্গনে হানাদারকে হটায় মুক্তিসেনা
ব্যারিকেড আর কাঁটাতার তাকে রুখতে তো পারবে না।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ষোলই ডিসেম্বর
তুমি গর্ব আমার, আমার অহঙ্কার
সালাম তোমায়, তোমায় নমস্কার।।
সেদিন যখন জ্বলে ওঠে বাঙালী
নিয়ে আপন পরিচয়
মানব দানব তোমার কাছে
প্রাণ ভিক্ষা চায়
তখন আমার মায়ের আঁচল উড়ে আকাশে
এমন ক্ষণ আমি পাই নাগো আর।।
ইতিহাসের যত রুদ্ধ পাতা
পেরিয়ে তোমায় পেলাম
প্রতি পাতায় রক্তে লেখা
শত শহীদের নাম
এলে তুমি আলো হয়ে মোছাতে অন্ধকার
এমন আলো বাধা মানে নাগো আর।।

[গানটি লিখেছেন এস এম আবু বকর ও সুর করেছেন রবিউল হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা।
(মাগো) তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালোবাসা।।
কি যাদু বাংলা গানে, গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা।।
বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন্‌, হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ঐ ফুলেরই মধুর রসে বাঁধলো সুখে মধুর বাসা।।
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আনলো মালা জগৎ জিনে।
তোমার চরণ-তীর্থে (মাগো) আজি জগৎ করে যাওয়া-আসা।।
ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
আছে কৈ এমন ভাষা এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা।।
ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে, ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ বলে;
ঐ ভাষাতেই বলবো হরি, সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এই বাংলার মাটিতে
(মাগো) জন্ম আমায় দিও।
এই আকাশ, নদী, পাহাড়
আমার বড় প্রিয়।।
কোথায় বলো এতো স্বপন
হাওয়াতে ভাসে।
কোথায় বলো এতো বকুল
বসন্তে হাসে।
শরৎ আকাশ কোথায় বলো
এমন রমণীয়।।
বার মাসে তের পাবণ
বলো কোথায় আছে।
মেঘের খটা দেখে এমন
ময়ূর কোথায় নাচে।
কোথায় বলো এতো মায়া
ধানের ক্ষেতে দোলে।
কোথায় বলো হাসে শিশু
সুখে মায়ের কোলে।
কোথায় বলো পল্লী বধূ
এমন কোমনীয়।।

[গানটি গেয়েছেন নির্মলা মিশ্র]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

হায় রে আমার মন মাতানো দেশ,
হায় রে আমার সোনা ফলা মাটি।
রূপ দেখে তোর কেন আমার নয়ন ভরে না
তোরে এতো ভালোবাসি তবু পরান ভরে না।।
যখন তোর ওই গাঁয়ের ঘরে
ঘুঘু ডাকা নিঝুম কোনো দুপুরে।
হংস মিথুন ভেসে বেড়ায়
শাপলা ফোটা তলতলে ওই পুকুরে।
নয়ন পাখি দিশা হারায়
প্রজাপতির পাখায় হারায়
তাদের কথা মনে ধরে না।।
যখন তোর ওই আকাশ নীলে
পাল তুলে যায়, সাত সাগরের পশরা।
নদীর বুকে হাতছানি দেয়,
লক্ষ ছেলে, মানিক-জ্বালা ইশারা।
হায় রে আমার বুকের মাঝে,
হাজার তারের বীণা বাজে
অবাক চোখে, পলক পড়ে না।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

বাংলাদেশের শিশু মোরা বাংলা ভালোবাসি
দেশের ডাকে মরতে পারি, দেশের ডাকে আসি।
সেই তো আমার বাংলাদেশ, আমাদেরই বাংলাদেশ।।
দেশটাকে ভাই গড়তে হলে করতে হবে আগে,
শিক্ষা শুধু জীবন গড়ে, শিক্ষাতে প্রাণ যাবে।
তাই তো রে ভাই সবাই মিলে পাঠশালাতে আসি।।
সত্য ন্যায়ের গড়তে জীবন শিক্ষাই হোক হাতিয়ার
ধন্য সেই জন এই ভুবনে শিক্ষা আছে যার।
সবার প্রাণে বাজবে এ গান যদি দেশকে ভালোবাসি।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পরবর্তী পৃষ্ঠা »