জীবনমুখী গান


নিশব্দে, নিরবে চোখের জল আর ফেলব না
প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে, মিছে অংক কষব না।
এ দেশ আমার, আমার এ দেশ, পেয়েছি স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যাক না মানব না।
ছত্রিশ বছর পরে, স্বাধীনতা খুঁজব না।।

কে আছে কোথায় এমন, গড়ে দেবে আমার ভুবন
মুছে দেবে যত যত্রনা।
আমিতো হেরেছি বটে, বার বার নিজের কাছে
কে দেবে আমায় বল শান্তনা।
দেখিনি দুচোখ মেলে, গানে প্রদীপ জ্বেলে,
কত কি দিয়েছে এই দেশটা।
খোলা আকাশের নীচে, কত কি রয়েছে তটে
খুঁজেনি কি করিনি চেষ্টা।
আর নয় বসে থাকা, হতাসায় মুখ ঢাকা।
ঝেড়ে-মুছে ফেলি যত গঞ্জনা।
আমি তো আর হারিব না
আমি তো আর হারিব না।।

ধন্য আমার জন্ম, এমন দেশেতে।
গুনিশ বারবার বিধাতার সকাশে।
গাছ-পালা, নদী-নালা, অপূর্ব সমাহার
রত্ন বিছানো যেন দিগন্ত জুরে তার।
পর্বতমালা, সমুদ্রসৈকত
শিল্পীর আঁকা যেন শিল্পীর জনপথ।
অবনীত মানুষের দেশ আমার দেশ
শিক্ষা দিতে পারে বদলে পরিবেশ।
আছে যে ও প্রত্যয়, ঘুরে-রুখে দাঁড়াবার
ঐত্যিয্য-ইতিহাস আজও শাক্ষি তার
বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ
আমার ভালোবাসা বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ
হৃদয় পথে আঁকা বাংলাদেশ।
চিনে নেই দেশটাকে, বদলে দেই বেশটাকে
বিজয়ের গাই তব বন্দনা।
স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যাওয়া মানব না।
ছত্রিশ বছর পরে, স্বাধীনতা খুঁজব না।।

Advertisements

এতে নেই কোনো বিষ্ময়
যার যত বেশি প্রচারণা, তারই এখন জয়
সততা, নিষ্ঠা, কিসে দেশ প্রীতি
তিলকে যদি তাল না দেখাই চলে না রাজনীতি
একবার এসো গো সখা মনের দুয়ারও খুলি
রাজনীতির এই কলা-কৌশল কেমন করে মুখি বলি?
ব্যানারে ব্যানারে ফ্রেশ তো নেই আকাশ গেছে টুটি
ঝাটুকার আর সুবিধাবাদীর বেড়ে গেছে ছোটা-ছুটি
মিনিটে মিনিটে চোখ ধাঁধালো গ্যাসের ঝলকানি
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত গরীব প্রতিধনি
খিচুড়ি আর শুকনো রুটির চলছে বিতরন
টিভি ক্যামেরায় বন্ধি হলো সকল আয়োজন
এ কোনো উৎসবও নয়, পার্টিয়ও নয়,
নয় কোনো সম্ভাশন।
এ যে দূর্গতদের পাশে মোরা আছি, তারই করুণ নিদর্শন।।
ছোট খাটো কোনো খুত পেলে তুলি প্রতিবাদের ঝড়
সব আক্রোশ যেন সেই জনতার উপর
কি কারণে রাস্তার ধারে বাঁধছি দোকানদারী
রোড ডিভাইডারের রড তুলে নিয়ে দেখাচ্ছি বাহাদূরী
কাকরাইলে ককটেলের চলছে প্রদর্শন
দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি করে নীরিহ জনগণ
এ কোনো যুদ্ধও নয়, সন্ত্রাসও নয়
নয় কোনো আন্দোলন
এ যে কার কত ক্ষমতা আছে
তারই করুণ নিদর্শন।
একবার এসো গো সখা মনের দুয়ারও খুলি।
রাজনীতির এই কলা-কৌশল কেমন করে মুখে বলি।।

আমি স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন, আমি স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন
স্বপ্নে বাধি ঘর
একুশ থেকে ষোলতে বিজয়, স্বপ্নে করে ভর
আমার স্বপ্ন হবে সত্য তাই স্বপ্ন বাধি সুর
তোমার আমার স্বপ্ন যখন একই সুরে সুরাসুর
আমি দেখেছি কোটি মানুষের চোখ স্বপ্নে উজ্জ্বল
দেশ মাতৃর প্রেমে সিক্ত হৃদয় উচ্ছল
আমি দেখেছি তোমার দামাল ছেলের রক্তিম চোখে স্বপ্ন
সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় মনমগ্ন।
বাংলাদেশ তুমি এগিয়ে চল, দামাল ছেলের উঠেছে জেগে
ভয় কি সে আর বল?
বাংলাদেশ তুমি এগিয়ে চল,
অশুভ শক্তির রাহুগ্রাস ছেড়ে মাথা উচু করে তোলো।
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।।

আমি স্বপ্ন দেখে নেতা-নেত্রীর শ্রদ্ধেয় প্রিয় পাত্র
দেশ ও দশের ক্যলানে নিবেদিত দিবারাত্র
আমি স্বপ্ন দেখে আমলারা তবে সেবিছে দেশের তরে
হীন আশা, লাল ফীতায় রাখেনি ফাইলটি ধরে
আমি স্বপ্ন দেখে বুদ্ধিজীবিরা ন্যায়ের কথা বলে
সুযোগ বুঝিয়া, বাতাস বুঝিয়া বাংলাই তারা তলে
আমি স্বপ্ন দেখি শিক্ষকজনার নিবেদিত মনপ্রান
শুধু শিক্ষিত নয় মানুষ গড়তে করেছে আত্যদান
আমি স্বপ্ন দেখি সাংবাদিকেরা রেখেছে নীতি ধরে
সেনা-বাহিনীর জঞ্জাল ছেড়ে ব্যারেক গিয়েছে থেমে।

আমি স্বপ্ন দেখি শ্রমিকের হাত উন্নয়নের সোপান
রাজপথি হয়ে দাবি আদায়ে তোলেনা তারা স্লোগান
আমি স্বপ্ন দেখি ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় দিলো মন
প্রোভাব খাটিয়ে, অসৎ উপায়ে করেনি তারা ধন
আমি স্বপ্ন দেখি জঙ্গীবাদীরা শান্তির কথা বলে
কোরান-হাদীস বুঝিয়া তারা আল্লাহর পথে চলে
আমি স্বপ্ন দেখি ধনী গরীবের কমছে ব্যবধান
কৃষকের ঘরে ভরে উঠছে নবান্নের গান
আমি স্বপ্ন দেখি কিশোরীর হাসি হয়নাকো কোনো ম্লান
একাত্তরের চেতনায় আবার জেগেছে প্রাণ।

আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি
মাইনকার চিপায়।
আমারও দিলের চোট
বোঝে না কোনো হালায়।।
কোন্‌ পাগলে পাইছিল
করছে শখের শাদী।
ক্ষমতার ঝিম-তিম,
ভাবে শাহজাদী।
সকাল-বিকাল, রাইত-দুপুর
বউয়ে দেয় ঠেলা।
কয় ‘বউ পুষার মুরাদ নয়
তয় বিয়া করছস কেলা।’
আমি এধার কামাল ওধার করি
সারাদিন ফেচকি মারি।
দিনের বেলায় আরতদারী
রাইতে চোরাকারবারি।
দিন-দুনিয়া সবই গেল
জীবন ভেস্তে যায়।।
মাইয়া আমার চিজ একখান
যেমুন ফিল্মের নায়িকা,
মাধুরী, ঐশ্বরিয়া, কাজলরে
কয় অফ যা।
পোলায় আমার শিক্ষিত
পড়ে দশ কেলাসের উপরে।
হাত খরচা না দিলে
ইংলিশে গাইল পাড়ে।
মনে মনে কই আমি
গাইলের আর হুনছস কি
আমগ গাইল হুনলে পড়ে
খাড়াইব মুরগাদি।
আমি হালায় কুলুর বলদ
ফাইটা জীবন যায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

এতে নেই কোনো বিস্ময়,
যার যত বেশী প্রচারণা,
তারই এখন জয়।
সততা, নিষ্টা, কিসের দেশপ্রীতি,
তিলকে যদি তাল না দেখাই,
চলে না রাজনীতি।
একবার এসো গো সখা,
মনের দুয়ার খুলি।
রাজনীতির এই কলা-কৌশল
কেমন করে মুখে বলি।
ব্যানারে, ব্যানারে, ফেস্টুনে
আকাশ গেছে টুটি।
চাটুকার আর সুবিধাবাদীর
বেড়ে গেছে ছোটাছুটি।
মিনিটে মিনিটে চোখ ধাঁধা লাগে
ফ্ল্যাশের ঝলকানি।
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত
ধ্বনি-প্রতিধ্বনি।
খিচুরী আর শুকনো রুটি
চলছে বিতরণ।
টিভি ক্যামেরায় বন্দী হলো
সকল আয়োজন।
এ কোনো উৎসবও নয়,
পার্টিও নয়, নয় কোনো সম্ভাষণ,
এ যে দুর্গতদের পাশে মোরা আছি
তারই করুণ নিদর্শন (হ্যাঁ, হ্যাঁ)।।
ছোটখাট কোনো ছুঁত পেলে তুলি
প্রতিবাদের ঝড়,
সব আক্রোশ যেন সেই
জনতার উপর।
বিনে কারণে রাস্তার ধারে
ভাঙছি দোকান-গাড়ি,
রোড ডিভাইডারের রড তুলে নিয়ে
দেখাচ্ছি বাহাদুরি।
কাটা রাইফেল, ককটেলের
চলছে প্রদর্শন।
দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি করে
নিরীহ জনগণ।
এ কোনো যুদ্ধও নয়,
সন্ত্রাসও নয়, নয় কোনো আন্দোলন।
এ যে কার কত ক্ষমতা আছে
তারই করুণ নিদর্শন।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কেউবা বলে সোনার বাংলা,
কেউ স্বনির্ভর বাংলাদেশ;
কেউবা গড়ে নতুন বাংলা,
গড়াগড়ির নেইকো শেষ।
কেউবা দেয় ভোটের অধিকার,
কেউবা খাওয়ায় ডাল-ভাত;
সবাই আবার একসুরে কয়-
স্বৈরাচারী নিপাত যাক।
যখন গদি নিয়া কাড়াকাড়ি
কে বা তাকায় আমার বাড়ি গো,
আমি আমার বেচলাম নীতি
দুই মুঠ ভাতের আশায়
বলো রে হায় হায়, হায় হায় হায়।।
গোপন কথা কইলে
লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
বাহিরে মন সিরাজদ্দৌলা,
মীর মদন আর মোহন লাল
অন্তরেতে বাস করে
মীর জাফর, বল্লভ রায়।।
ইস্কুলেতে গিয়া মোরা
জ্ঞানোন্নেশে কলম ধরি,
দেশ ও দশের করব সেবা
এই মর্মে শপথ করি।
দেশের মাটি সবচেয়ে খাঁটি,
তার সদা রাখব মান
হয় যদি বা দিতে হয়
ক্ষুদিরামের মতো প্রাণ।
কিন্তু মোদের ডাইকা নিয়া,
লক্ষ টাকার লোভ দেখাইয়া,
অস্ত্র হাতে তুইলা দিলো,
গদি সুরক্ষায়।।
নেতা বলো, নেত্রী বলো,
সবার মুখে একই ধ্বনি,
ক্ষমতায় গেলে তারা,
দেশ বানাইব সোনার খনি।
কিন্তু যখন পায় ক্ষমতা,
ভুলে যায় সব অতীত কথা,
ব্যক্তিগত রেষারেষীর
শোধ নিবার চায়।
এই সুযোগে মন্ত্রী-আমলা,
আখের ও গুছায়।
উন্নয়ন যে বন্দী রইল
ফাইলের ও পাতায়।।
পরের কথা বলব কি আর
নিজের দিকে চাইয়া দেখি
স্বাধীনতা পাইয়া
নিজের কি হাল করেছি।
বাঙালী না বাংলাদেশী,
এ যে নিয়ে রেষারেষী;
আসলে তো কাজে-কর্মে
হয়ে গেছি হাফ-বিদেশী।
ইংল্যান্ড আর অ্যামেরিকা,
আমার মাথায় স্বপ্ন গাঁথা গো।
আমারে যে পাইয়া বইছে
বিদেশী নেশায়।।
বঙ্গ দেশের রঙ্গ লইয়া
রচিল হায় কত গান;
সেই গানের মর্ম কথায়
জুড়ায় আমার মন ও প্রাণ।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের রাণী সে যে
আমার জন্মভূমি।
সেই রাণীর ঘরে জন্ম নিয়া,
কপালে রাজ তিলক দিয়া,
এমনতর বাটপারী কি
আমার শোভা পায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন,
এ জীবনে যেন আসে এমনই স্বপ্নের দিন।
সেই ভাবনায় ভাবে মনে হয়
দু’টি নয়নেতে ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
একদিন হঠাৎ হাওয়া, থামিয়ে আসা-যাওয়া,
প্রশ্নের জাল বোনে, শুরু হয় চাওয়া-পাওয়া।
আজ শুধু পথ চাওয়া, বিরহের গান গাওয়া,
ভাবনার নদী বুকে, উজানেতে তরী বাওয়া।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।
যদি এই পথ ধরে, আমার এ মনের ঘরে,
চিঠি হয় অগোচরে, আসে কেউ চুপিসারে।
চাঁদের ওই আলো হয়ে, আসো মোর ভাঙা ঘরে,
দেখা যায়, যায় না ছোঁয়া, যেন গান চাপা স্বরে।
শুধু সেই গান ভোলে অভিমান
চোখে অকারণ ঘোর বর্ষা নামে।
আসে না ফাগুন, মনেতে আগুন,
এমন বিরহ জ্বালায় স্মৃতির মেলায় কাটে না আর দিন।।

[গানটি গেয়েছেন নচিকেতা]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

পরবর্তী পৃষ্ঠা »