কেউবা বলে সোনার বাংলা,
কেউ স্বনির্ভর বাংলাদেশ;
কেউবা গড়ে নতুন বাংলা,
গড়াগড়ির নেইকো শেষ।
কেউবা দেয় ভোটের অধিকার,
কেউবা খাওয়ায় ডাল-ভাত;
সবাই আবার একসুরে কয়-
স্বৈরাচারী নিপাত যাক।
যখন গদি নিয়া কাড়াকাড়ি
কে বা তাকায় আমার বাড়ি গো,
আমি আমার বেচলাম নীতি
দুই মুঠ ভাতের আশায়
বলো রে হায় হায়, হায় হায় হায়।।
গোপন কথা কইলে
লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
বাহিরে মন সিরাজদ্দৌলা,
মীর মদন আর মোহন লাল
অন্তরেতে বাস করে
মীর জাফর, বল্লভ রায়।।
ইস্কুলেতে গিয়া মোরা
জ্ঞানোন্নেশে কলম ধরি,
দেশ ও দশের করব সেবা
এই মর্মে শপথ করি।
দেশের মাটি সবচেয়ে খাঁটি,
তার সদা রাখব মান
হয় যদি বা দিতে হয়
ক্ষুদিরামের মতো প্রাণ।
কিন্তু মোদের ডাইকা নিয়া,
লক্ষ টাকার লোভ দেখাইয়া,
অস্ত্র হাতে তুইলা দিলো,
গদি সুরক্ষায়।।
নেতা বলো, নেত্রী বলো,
সবার মুখে একই ধ্বনি,
ক্ষমতায় গেলে তারা,
দেশ বানাইব সোনার খনি।
কিন্তু যখন পায় ক্ষমতা,
ভুলে যায় সব অতীত কথা,
ব্যক্তিগত রেষারেষীর
শোধ নিবার চায়।
এই সুযোগে মন্ত্রী-আমলা,
আখের ও গুছায়।
উন্নয়ন যে বন্দী রইল
ফাইলের ও পাতায়।।
পরের কথা বলব কি আর
নিজের দিকে চাইয়া দেখি
স্বাধীনতা পাইয়া
নিজের কি হাল করেছি।
বাঙালী না বাংলাদেশী,
এ যে নিয়ে রেষারেষী;
আসলে তো কাজে-কর্মে
হয়ে গেছি হাফ-বিদেশী।
ইংল্যান্ড আর অ্যামেরিকা,
আমার মাথায় স্বপ্ন গাঁথা গো।
আমারে যে পাইয়া বইছে
বিদেশী নেশায়।।
বঙ্গ দেশের রঙ্গ লইয়া
রচিল হায় কত গান;
সেই গানের মর্ম কথায়
জুড়ায় আমার মন ও প্রাণ।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের রাণী সে যে
আমার জন্মভূমি।
সেই রাণীর ঘরে জন্ম নিয়া,
কপালে রাজ তিলক দিয়া,
এমনতর বাটপারী কি
আমার শোভা পায়।।

[গানটি গেয়েছেন হায়দার হুসেইন]

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

Advertisements