লালনগীতি


সহজ মানুষ ভজে দেখনারে মন দিব্যজ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে।।
ভজ মানুষের চরণ দু’টি
নিত্য বস্তু হবে খাঁটি
মরিলে সব হবে মাটি
ত্বরায় এই ভেদ লও জেনে।।
শুনি ম’লে পাবো বেহেস্তখানা
তা শুনে তো মন মানে না
বাকির লোভে নগদ পাওনা
কে ছাড়ে এই ভুবনে।।
আচ্ছালাতুল মেরাজুল মোমেনীনা
জানতে হয় নামাজের বেনা
বিশ্বাসীদের দেখাশোনা
লালন কয় এই ভুবনে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

         বাড়ির কাছে আরশী নগর
(একঘর) সেথা পড়শী বসত করে-
         আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।।
         গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
         নাই কিনারা নাই তরণী পারে,
         বাঞ্ছা করি দেখব তারে
(আমি) কেমনে সেথা যাই রে।।
         কি বলব পড়শীর কথা,
         হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা নাই-রে
         ক্ষণেক থাকে শূণ্যের উপর
(ওসে) ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
         পড়শী যদি আমায় ছুঁতো,
         যম যাতনা সকল যেতো দূরে।
         সে আর লালন একখানে রয়-
(তবু) লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না?
নড়ে চড়ে হাতের কাছে
খুঁজলে জনমভর মেলে না।।
খুঁজি তারে আসমান জমিন
আমারে চিনি না আমি,
এ বিষম ভ্রমের ভ্রমি
আমি কোন্‌ জন, সে কোন্‌ জনা।।
হাতের কাছে হয় না খবর,
কি দেখতে যাও দিল্লির শহর!
সিরাজ সাঁই কয়, লালন রে তোর
সদাই মনের ঘোর গেল না।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

যেখানে সাঁর বারামখানা
শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে-
দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা।।
যা ছুঁইলে প্রাণে মরি
এ জগতে তাইতে তরি,
বুঝেও তা বুঝতে নারি
কীর্তিকর্মার কি কারখানা।।
আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে
দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে,
কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে
আমার মনের ঘোর গেলো না।।
যে ধনের উৎপত্তি প্রাণধন
সেই ধনেরি হলো না যতন,
অকালের ফল পাকায় লালন
এই দুঃখের দোসর মিললো না।।

{গানটি পড়া না গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ধন্য ধন্য বলি তারে
বেঁধেছে এমন ঘর
শূন্যের উপর ফটকা করে।।
সবে মাত্র একটি খুঁটি
খুঁটির গোড়ায় নাইকো মাটি,
কিসে ঘর রবে খাঁটি
ঝড়ি-তুফান এলে পরে।।
মূলাধার কুঠরি নয় টা
তার উপরে চিলে-কোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে।।
উপর নীচে সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন্‌ দরজা খুলে ঘরে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

         চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি
         ভেদ-পরিচয় দেয় না আমায়
(আমার) ঐ খেদে ঝুরে আঁখি।।
         বুলি বলে শুনতে পাই
         রূপ কেমন দেখিনা ভাই
(আমি) ভীষণ ঘোর দেখি
         চেনাল পেয়ে চিনে নিতাম
(আমার) যেতো মনের ধুকধুকি।।
         পোষা পাখি চিনলাম না
         এ লজ্জা তো যাবে না-
(আমি) উপায় কি করি!
         কোন দিনে-যে উড়ে যাবে
(আমার) ধুলো দিয়ে দুই চোখই।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

ও যার আপন খবর আপনার হয় না,
একবার আপনারে চিনতে পারলে রে
যাবে অচেনারে চেনা।।
ও সাঁই নিকট থেকে দূরে দেখায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায় দেখ না।
আমি ঘুরে এলাম সারা জগত রে
তবু মনের গোল তো যায় না।।
ও সে আমৃত সাগরের সুধা-
সুধা খাইলে জীবের ক্ষুধা-তৃষ্ণা রয় না।
ফকির লালন মরল জল-পিপাসায় রে
কাছে থাকতে নদী মেঘনা।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

   মিলন হবে কত দিনে
   আমার মনের মানুষের সনে।।
   চাতক প্রায় অহর্নিশি
   চেয়ে আছি কালো শশী
   হব বলে চরণ-দাসী,
   ও তা হয় না কপাল-গুণে।।
   মেঘের বিদ্যুৎ মেঘেই যেমন
   লুকালে না পাই অন্বেষণ,
   কালারে হারায়ে তেমন
   ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে।।
   যখন ও-রূপ স্মরণ হয়,
   থাকে না লোক-লজ্জার ভয়-
   লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
(ঐ) প্রেম যে করে সে জানে।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

     আমি অপার হয়ে বসে আছি
     ও হে দয়াময়,
     পারে লয়ে যাও আমায়।।
     আমি একা রইলাম ঘাটে
     ভানু সে বসিল পাটে-
(আমি) তোমা বিনে ঘোর সংকটে
     না দেখি উপায়।।
     নাই আমার ভজন-সাধন
     চিরদিন কুপথে গমন-
     নাম শুনেছি পতিত-পাবন
     তাইতে দিই দোহাই।।
     অগতির না দিলে গতি
     ঐ নামে রবে অখ্যাতি-
     লালন কয়, অকুলের পতি
     কে বলবে তোমায়।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

(ভবে) মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
        সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার।।
        নদী কিংবা বিল-বাঁওড়-খাল
        সর্বস্থলে একই এক জল,
        একা মেরে সাঁই হেরে সর্ব ঠাঁই
        মানুষে মিশিয়া হয় বিধান তার।।
        নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে,
        আকার সাকার হইল সে।
        দিব্যজ্ঞানী হয় তবে জানতে পায়
        কলি যুগে হলেন মানুষ-অবতার।।
        বহু তর্কে দিন বয়ে যায়
        বিশ্বাসের ধন নিকটে রয়-
        সিরাজ সাঁই ডেকে বলে লালনকে
        কুতর্কের দোকান সে করে না আর।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

           পাবে সামান্যে কি তার দেখা!
(ওরে) বেদে নাই যার রূপ-রেখা।।
           কেউ বলে, পরম মিষ্টি
           কারো না হইল দৃষ্টি
           বরাতে দুনিয়া সৃষ্টি
(ওরে) তাই নিয়ে লেখাজোখা।।
           নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে
           সদাই ফেরে অচিন দেশে-
           দোসর তাই নাইকো পাশে,
(ওরে) ফেরে সে একা একা।।
           কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব,
           সে তুলনা কি আর দেবো!
           লালন বলে, গুরু ভাবো
(তোমার) যাবে রে মনের ধোঁকা।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}

জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।
আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে,
কি জাত হবা যাবার কালে
সে কথা ভেবে বল না।।
ব্রাহ্মণ চন্ডাল চামার মুচি
এক জলেই সব হয় গো শুচি,
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাকেও ছাড়বে না।।
গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়,
তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়।
লালন বলে জাত কারে কয়
এ ভ্রম তো গেল না।।

{গানটি না পড়া গেলে বিকল্প লিংক}
{If you can’t read it, click here}